নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতায় থমকে গেল সন্ত্রাস মামলা। এই মামলায় অভিযুক্ত ১২ জেএমবি জঙ্গির হদিশ পেয়েছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন বর্তমানে অন্য মামলায় বন্দি রয়েছে পাটনা জেলে।
ফলে সব অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত না থাকায় কলকাতার বিচার ভবনে স্থগিত হয়ে যায় সন্ত্রাসবাদী মামলার বিচার। এই পরিস্থিতিতে কবে পাটনায় থাকা জঙ্গির শুনানি শেষ হবে, আর কবেই বা সে কলকাতার জেলে ফিরবে তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন। তাই বর্তমানে সেই মামলার তারিখ পড়া ছাড়া আর অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই। এই বিষয় কিছু সংখ্যক আইনজীবী বলেন, “২০২০ সালের এই সন্ত্রাসবাদী মামলায় সাক্ষীর তালিকা দীর্ঘ। তাই কবে মামলার শুনানি শেষ হবে সেটাই এখন দেখার।”
কলকাতা কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের এসটিএফ-এর আধিকারিকরা ২০২০ সালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে প্রথমে কলকাতা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে দুই জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করে। তার পর আসতে আসতে আরও সূত্র পায় পুলিশ। একে একে বাকি অভিযুক্তদেরও রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে গ্রেফতার করা হয়। যেই সমস্ত জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশ কিছু জনের নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা যায়। পুলিশের দাবি, ধৃতরা মূলত শহরে নাশকতার চক্র চালানোর উদ্দেশ্যেই এসেছিল। গ্রেফতার করা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিস্ফোরক সহ একাধিক আইনী মামলা করা হয়। তাছাড়াও ধৃতদের কাছ থেকে বিস্ফোরক ছাড়াও নানা নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, সমস্ত তদন্ত শেষ করে পুলিশ আদালতকে চার্জশিটও জমা দেয়। একাধিকবার ধৃতদের জামিনের আবেদন করা হয় কিন্তু প্রতিবারই খারিজ করে কলকাতা আদালত। ধৃতদের নামে একাধিক অভিযোগ করার ফলে তাঁদের আবার ভিন্ন জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। তাছাড়াও বহু কারণে পিছিয়ে যায় এই মামলা। জানা গিয়েছে, এর মধ্যেই প্রেসিডেন্সি জেল থেকে এক অভিযুক্ত জঙ্গিকে পাটনার একটি মামলায় শুনানির জন্য ওই জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই কারণে সন্ত্রাসবাদী এই মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। আইনজীবীদের একাংশ জানায়, কোনও মামলায় যদি সবাই আদালতে উপস্থিত না থাকে তাহলে সেই মামলায় শুনানি হতে পারে না। ফলে এই সন্ত্রাসবাদী মামলার শুনানি বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে।