নিজস্ব প্রতিনিধি: নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে শহর কলকাতা(Kolkata) জুড়ে বেআইনি পার্কিং(Illegal Parking) নিয়ে নিজের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সেই বৈঠক থেকেই তিনি কলকাতা পুরনিগম(KMC) এবং কলকাতা পুলিশকে(KP) নির্দেশ দিয়েছিলেন শহর থেকে যাবতীয় বেআইনি পার্কিং সরিয়ে দিতে হবে। বলেছিলেন, ‘শহরের রাস্তায় বেআইনি পার্কিং বেড়ে গিয়েছে। তা সবার আগেই সরাতে হবে। ফুটপাতে গাড়ি, বাইক পার্ক করে রাখা হচ্ছে। কেন পুলিশ সেটা দেখবে না। কোনও ফুটপাতে যেন গাড়ি পার্কিং করা না হয়। পুলিশ টাকা নিয়ে বেআইনি পার্কিংকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমার কাছে সব খবর আছে। কে, কোথায় টাকা নিয়ে বেআইনি পার্কিং চালায়। নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এই বেআইনি পার্কিং চালানো হচ্ছে। পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছি, সব বেআইনি পার্কিং ভেঙে ফেলতে হবে। বেআইনি পার্কিং থেকে প্রচুর টাকা উঠছে। আমার কাছে খবর রয়েছে। কেন কাউকে বেআইনিভাবে টাকা তোলার রাস্তা করে দেব। আলিপুরে যেমন পার্কিংয়ের জন্য সম্পন্ন তৈরি করা হয়েছে, তেমনই শহরে আরও পাঁচ-সাতটি এধরনের পার্কোম্যাট তৈরি করা হোক। তার জন্য জমি খুঁজতে হবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের জেরেই শহরে পার্কিংয়ের জন্য জায়গা খুঁজতে যৌথ সমীক্ষা শুরু করে কলকাতা পুরনিগম ও কলকাতা পুলিশ। তাতেই এল সাফল্য।
কলকাতা পুরনিগম এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরে ৯৫০টি এলাকা চিহ্নিত করা গিয়েছে যেখানে বৈধ ভাবে Parking Zone চালু করা আছে বা করা যাবে। সেখানে সবমিলিয়ে একই সময়ে ১৪ হাজার গাড়ি রাখা যাবে। লালবাজার সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রাথমিকভাবে বেআইনি পার্কিং লট চিহ্নিত করতে শুরু করেছিল কলকাতা পুরনিগম ও লালবাজার। তাঁরা যৌথভাবে ২৮টি রাস্তা চিহ্নিত করেন। একই সঙ্গে সারা শহরে প্রায় ২২০০টি জায়গায় বেআইনি পার্কিং ব্যবস্থার হদিশ পান। সেই সমস্ত এলাকা থেকে বেআইনি পার্কিং তুলে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি পার্কিং জোনের ওপর সমীক্ষা চালানোর জন্য কলকাতা পুলিশের ২৫টি ট্রাফিক গার্ডের ওসি ও অতিরিক্ত ওসিদের নির্দেশ দিয়েছেন নগরপাল বিনীত গোয়েল। কলকাতা পুরনিগমের পার্কিং বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ৮০০ রাস্তায় পুরনিগম স্বীকৃত পার্কিংয়ের জায়গায় ১১ হাজার গাড়ি রাখা যায়। তবে আদতে সেই নিয়ম মানা হয় না।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর শহরের বিভিন্ন রাস্তা সমীক্ষা করেন আধিকারিকরা। সমীক্ষার পর নতুন করে আরও ১৫০টি এলাকা চিহ্নিত হয়। কলকাতা পুরনিগমের হিসেব বলছে, ১৫০টি জায়গায় আরও ৩ হাজার গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হবে। সব মিলিয়ে শহরে মোট ৯৫০টি পার্কিং এলাকা তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইএম বাইপাসেও পার্কিং এলাকা তৈরি করার কথা ভাবছে কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ। সেখানে ২৪টি লোকেশনে নতুনভাবে পার্কিং লট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই এলাকায় মোট ৪০০টি গাড়ি রাখা যাবে। পুলিশের কাছেও তালিকা পাঠানো হয়েছে। তবে পুরনিগম সূত্রে খবর, বাইপাসের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত লালবাজার কোনও অনুমতি দেয়নি। তবে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের তরফে কলকাতা পুরনিগমকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গাড়ি পার্কিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা কর্মীদের যাতে সহজেই চেনা যায় তার জন্য তাঁদের নির্দিষ্ট পোশাক এবং আইডি কার্ড যেন বরাদ্দ করে পুরনিগম।