নিজস্ব প্রতিনিধি: শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭২.৫০ শতাংশ। আগামী সোমবার (২৩ জুন) ভোটের ফলাফল জানা যাবে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ আসনটি থেকে জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নাসিরুদ্দিন আহমেদ। যিনি স্থানীয়দের কাছে লাল হিসাবে সমধিক পরিচিত ছিলেন। তাঁর অকাল প্রয়াণের ফলে আসনটি শূন্য হওয়ায় এদিন উপনির্বাচন হয়। রাজ্যের শাসকদলের তরফে প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত বিধায়কের কন্যা আলিফা আহমেদকে। বিজেপি প্রার্থী করেছে আশিস ঘোষকে। কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়িয়েছেন কাবিলউদ্দিন শেখ। খাতায় কলমে একাধিক প্রার্থী থাকলেও লড়াই মূলত দ্বিমুখী। তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই বিজেপির।
এদিন সকাল থেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ভোটাররা। যদিও সকালের দিকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। কিন্তু বেলা গড়াতেই বুথে-বুথে ভোটারদের ভিড় বাড়তে থাকে। নির্বাচনে যাতে কোনও অশান্তি না হয় তার জন্য কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্থ করেছিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছিল ১৪ কোম্পানি আধা সেনা। বেশ কয়েকটি বুথে শুরুর দিকে ইভিএম নিয়ে বিভ্রাট দেখা দেয়। তবে অতি দ্রুতই ওই সমস্যার সমাধান করে নির্বাচন কমিশন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চললেও ভোটদানের পর বাইরে এসে মধ্যমা দেখিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ। এমনকি তাঁর বাঁ হাতের মধ্যমা আঙুলে ভোটের কালির দাগও দেখা গিয়েছে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও ব্যক্তি ভোট দিলে তাঁর বাঁ হাতের তর্জনীতে ভোটের কালি দেওয়া হয়। কেন বিজেপি প্রার্থীর মধ্যমায় কালি লাগানো হল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচন কমিশনের তরফেও রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়। বিকেল পাঁচটা (ভোটদানের শেষ সময়) ভোট পড়ার হার ছিল ৬৯.৮৫ শতাংশ। তখনও বহু বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল। কোথাও-কোথাও ভোটগ্রহণ শেষ হতে রাত গড়িয়ে যায়।