নিজস্ব প্রতিনিধি: অর্থাভাবের মধ্যেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিরহাদ হাকিমের(Firhad Hakim) নেতৃত্বাধীন কলকাতা পুরনিগম(KMC)। শুক্রবার ফিরহাদের উপস্থিতিতে মেয়র পারিষদ(MIC) বৈঠকে ঠিক হয়েছে, ছোট জমির মালিকদের(Landlords) ক্ষেত্রে বাড়ির Plan Sanction বাবদ বড় ছাড় দেওয়া হবে গৃহস্থদের। দুকাঠা থেকে তিন কাঠা জমির মালিকদের এতদিন বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে Plan Sanction বাবদ ২,২০,০০০ টাকা দিতে হতো। সেটাই এবার একধাক্কায় কমিয়ে ১,২০,০০০ টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রায় ৫০ শতাংশ ছাড় মিলবে বাড়ি তৈরির জন্য Plan Sanction বাবদ। ফিরহাদের দাবি, শহর কলকাতায় যারা ছোট বাড়ি তৈরি করতে চান থাকার জন্য তাঁরা এবার থেকে এই সুবিধা পাবেন। তবে এই সুবিধা পেতে গেলে একটি শর্তও মানতে হবে। আর তা হল সেই বাড়িটি কোনও ভাবেই কোনও বাণিজ্যিক কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
আরও পড়ুন, বঙ্গভঙ্গ ইস্যুর পরে আর জি কর ইস্যুতেও শুভেন্দুর অভিমতে গুরুত্ব মমতার
জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরনিগমের নয়া নিয়ম অনুযায়ী, যার ১ কাঠা জমি রয়েছে, সেখানে বাড়ি করতে হলে Building Plan জমা দিতে হবে পুরনিগমের কাছে। তারপর সেই Plan Sanction’র জন্য জমা দিতে হবে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ কাঠা পিছি ৪০ হাজার টাকায় ৩ কাঠা জমির ওপর নির্মীয়মান বাড়ির জন্য জমা দিতে হবে ১,২০,০০০ টাকা যা আগে ছিল ২,৪০,০০০টাকা। ফিরহাদ জানিয়েছেন, ‘এই ছাড় শুধুমাত্র নিজের বাড়ি তৈরি করলেই মিলবে। বিল্ডিংটা সম্পূর্ণ Residential হতে হবে। Commercial হলে ছাড় মিলবে না। এমনকি ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষেত্রেও এই ছাড় মিলবে না। মূলত মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি যাতে শহরে নিজের বাড়ি বানিয়ে থাকতে পারে তার জন্যই এই সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন, ফাস্টট্র্যাক আদালতে ফাঁসির আবেদন জানানো উচিত, আর জি কর কাণ্ডে অভিমত মুখ্যমন্ত্রীর
শহর কলকাতায়(Kolkata) এমনিতেই জমি মেলা ভার। তবুও কিছু কিছু পরিবারের হাতে এখনও অল্পবিস্তর জমি রয়ে গিয়েছে। কারও হাতে আছে ২ কাঠা জমি, কারও বা হাতে আছে মোটে ১ কাঠা জমি। কিন্তু সেই জমিতে বাড়ি বানাতে গিয়ে অনেকেই এখন হোঁচট খাচ্ছেন। চড়া বাজারদরের যুগে শুধুমাত্র বাড়ির Plan Sanction’র জন্য ৮০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা দিতে অনেকেরই গায়ে লাগছে। সেই কারণে তাঁরা নিজেদের বাড়ি না বানিয়ে তা প্রোমোটিং করতে দিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু কলকাতা পুরনিগমের নয়া এই সিদ্ধান্তের দরুণ এবার মধ্যবিত্ত পরিবারগুকি নিজেদের হাতে থাকা জমিতে নিজেদের বাড়ি বানাবার সাহস দেখাতে পারবেন। এর ফলে বেআইনি নির্মাণের প্রবণতাও অনেকটাই কমবে বলে আশাবাদী পুরনিগমের আধিকারিকেরাও।