নিজস্ব প্রতিনিধি: কেন্দ্রের ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, সূতী সহ একাধিক জায়গায় জায়গায় জমায়েত, লাঠিবাজি, পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর মতো ঘটনা। শুক্রবার সংখ্যালঘুদের মিছিল থেকে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছিল। বাধ্য হয়ে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশও। পরে বোমাবাজি করারও অভিযোগ ওঠে। শনিবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভা। ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ফের গুলি চলে। ওয়াকফ-অশান্তির মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন এক যুবক ও এক কিশোর। সামশেরগঞ্জে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বাবা ছেলেকে। এই পরিস্থিতিতে শান্তির বার্তা দিলেন কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী।
দক্ষিণ মালদার সাংসদ এদিন বলেন, “আমি খুব দুঃখিত যে ধুলিয়ান ও সামশেরগঞ্জে অশান্তি চলছে কাল থেকে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে আমরা শান্তি আনার চেষ্টা করছি। যেটার সূচনা খুব ছোট ভাবে হয়েছিল সেটাই এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। চারদিকে হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমি আপনাদের কাছে আবেদন রাখছি আপনারা শান্ত হন।”
তাঁর আরও সংযোজন, “হাজার হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ মিলে মিশে এক সঙ্গে থেকেছে। এখানে ধর্ম নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কোনও ধর্ম বলে না যে অন্য ধর্মকে আঘাত করো, মন্দির মসজিদ ভাঙো। যারা আমাদের হিন্দু মুসলিম ভাইদের মধ্যে সৃষ্টি করতে চাইছেন তাদের বলি এখন বেশিরভাগ মানুষই ভাল মানুষ। কিন্তু যেহেতু আইন শৃংখলা ভেঙে গিয়েছে তাই পুলিশকেও পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।”
শেষে শান্তি প্রার্থনা করে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “আপনারা শান্ত থাকুন। কোনও ধর্মীয় সুড়সুড়িতে প্রভাবিত হবেন না। যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন তাঁরা ধর্মের রক্ষক নন, আসলে শত্রু।”
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রধান বিরোধী দলনেতা হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর জন্য। রাজ্যের পক্ষ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বলেছেন রাজ্য পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সবটা সামলাচ্ছে। স্বয়ং ডিজি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও প্রয়োজন নেই। এখন উচ্চ আদালতের বিচারপতি কী নির্দেশ দেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।