নিজস্ব প্রতিনিধি : ওয়াকফ আইনের বিরোধিতা করে মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল কিছু কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৮টি সংগঠনকে চিহ্নিত করেছে সিট। জানা গিয়েছে, এই ৮টি সংগঠন মূলত মুর্শিদাবাদ, মালদা, পাকুড় এলাকায় সচেষ্ট ছিল। এই আইনের বিরোধীতা করে এলাকায় অশান্তি তৈরি করাই ছিল মূল লক্ষ্য। সেই জন্য টাকা বিলি করা থেকে শুরু করে এলাকায় এলাকায় ঝামেলা পাকানোর কাজ করতে লোক জড়ো করার কাজও তারাই করছিল বলে জানিয়েছে মুর্শিদাবাদের অশান্তির তদন্তের জন্য তৈরি হওয়া সিট।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, চিহ্নিত হওয়া ৮টি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগ রয়েছে বাংলাদেশের। অশান্তি ছড়ানোর সময় বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছি, মুর্শিদাবাদে যেধরনের হামলা চলছে তার সঙ্গে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অশান্তির মিল রয়েছে। এবার সিটের কাছে তেমনই তথ্য মিলেছে। সামশেরগঞ্জ, সূতি ও ধুলিয়ানে অশান্তি ছড়ানোর পিছনে কারা দায়ী, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছে তদন্তকারীরা। সেই সময় বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, সামনে থেকে এই হামলা করার জন্য কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। সেই জিজ্ঞাসাবাদেই উঠে এসেছে বহু তথ্য। ওই সকল এলাকায় বহুদিন ধরেই ঘাঁটি গেড়েছিল কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠনের সদস্যরা। ওয়াকফ বিল নিয়ে এলাকায় থাকা একাধিক জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের সদস্যদের একত্রিত করে ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, চারদিক ভাবনা চিন্তা করে আটঘাঁট বেধেই অশান্তি ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা। জঙ্গি কায়দায় হামলা থেকে পুলিশকে আক্রমণের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। বিক্ষোভ দেখানোর নাম করে এলাকায় এলাকায় অশান্তি ছড়ানোই ছিল মূল লক্ষ্য। তদন্তকারী সূত্রে খবর, ধৃতদের মোবাইল ঘেটে, কললিস্ট দেখে বেশকিছু নম্বর চিহ্নিত হয়েছে। মৌলবাদী সংস্থাগুলো বেশ কিছু লোকের নামে ওই সিমগুলো তুলেছিল মাস খানেক আগে। বিক্ষোভ ছড়াতে ১০-১২ হাজার টাকা করে বিলি করার অভিযোগ উঠেছে। মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশের নেতাদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা।