নিজস্ব প্রতিনিধি: একই সঙ্গে চাকরি পেয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী। চাকরি হারালেনও একই সঙ্গে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ২০১৬-র প্যানেল বাতিল ঘোষণার পরেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল স্বামী-স্ত্রীয়ের। কীভাবে সংসার সামলাবেন তা নিয়ে চিন্তায় দম্পতি। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো তাঁদের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। বাড়ির ২ জন রোজগেরে মানুষই এক মুহূর্তে হয়ে পড়েছেন বেকার। ফলে চোখে জল ছাড়া আর কিছু নেই।
বারুইপুরের সীতাকুণ্ড বিদ্যায়তনের বায়োলজির শিক্ষিকা সোদপুরের দেবশ্রী সাহা। চাকরি হারিয়ে অথৈ জলে পড়েছে ওই দম্পতি। এখন সঙ্গী শুধুই চোখের জল। তবে দেবশ্রী জানান, চাকরি বাতিল নিয়ে সরকার কী বলছে, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে আসবেন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কপিও তাঁরা পাননি। যতক্ষণ না সেই নোটিস পাচ্ছেন, ততক্ষণ এ নিয়ে কিছু বলতে পারবেন না। রায় নিয়ে বলার মতো মানসিকতা নেই। সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, স্বামী, সন্তান, মা, বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে সংসার দেবশ্রীর। দেবশ্রীর স্বামীও ২০১৬ –র প্যানেলেই পাওয়া শিক্ষক। গোটা পরিবার তাঁদের ওপরেই নির্ভরশীল। হঠাত করে চাকরি চলে যাওয়ায় বিপাকে গোটা পরিবার।
ওই স্কুলেরই অঙ্কের শিক্ষিকা অঙ্কিতা ধরও চাকরি হারিয়েছেন। তিনিও ২০১৬ সালের প্যানেলভুক্ত। তিনি বলেন, যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই না করার দায় যোগ্যরা কেন নেবে? এর দায় চাকরির নিয়োগকর্তাদেরই নিতে হবে। ওই স্কুলে মোট ৬ জন এসএসসি থেকে এসেছে। তাঁরা প্রত্যেকেই ২০১৬ সালের প্যানেলভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা।এদিন প্যানেল বাতিলে তাঁরা সকলেই হলেন চাকরিহারা।