নিজস্ব প্রতিনিধি, দিঘা : ৭ দিন মাসির বাড়ি কাটিয়ে অবশেষে নিজের বাড়ি ফিরবেন জগন্নাথদেব। রথাযাত্রার মতই উল্টোরথেও দিঘায় ভক্তদের উন্মাদনা তুঙ্গে। রথে চেপেই শনিবার মাসির বাড়ি থেকে জগন্নাথমন্দিরে আসবেন তিন দেব-দেবী। উল্টোরথ উপলক্ষ্যে ভক্ত সমাগম হয়েছে বিস্তর। শুক্রবার সকাল থেকেই সড়ক ও রেলপথের দিকে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। ভিড় থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় রয়েছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়াও ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স, ৮টি মেডিক্যাল বুথ, ১৬টি স্ট্রেচার রাখা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, উল্টোরথের গোটা যাত্রা পথে যাতে ভক্তদের কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে নজর রয়েছে। পিএইচই দফতর জগন্নাথ মন্দির থেকে মাসিরবাড়ি পর্যন্ত জাতীয় সড়কের ধারে খাবার জলের ব্যবস্থা রেখেছে। শনিবার সকাল থেকেই উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্রসৈকত দিঘা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শুক্রবারই রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী পুলক রায়, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী দীঘায় পৌঁছে গিয়েছেন। উল্টোরথ নিয়ে এই ৫ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি, পুলিশসুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য প্রমুখ।
রথযাত্রার মতোই উল্টোরথেও নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টে নাগাদ মাসির বাড়ি থেকে রথ বের হবে বলে জানা গিয়েছে। রথযাত্রায় যেমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল, রাস্তার দুধারে সেইভাবেই থাকবে ব্যারিকেড। ওই ব্যারিকেডের সঙ্গে রথের রশি লাগানো থাকবে। সেই রশি স্পর্শ করতে পারবেন ভক্তরা। রাস্তার দু’ধারে এলইডি স্ক্রিন বসানো হয়েছে। গোটা অনুষ্ঠানের লাইভ কভারেজ হবে। উল্টোরথের দিন দেড় হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোন ও সিসি ক্যামেরায় নজরদারিও চলবে।
শনিবার উল্টোরথের দিন প্রায় ১০হাজার ভক্তকে অন্নপ্রসাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন জগন্নাথদেব এলেও মন্দিরে রাখা হবে তিন দেবদেবীকে। তিনদিন সেখানে রাখার পর গর্ভগৃহে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁদের।