নিজস্ব প্রতিনিধি : নিজের বাড়ি থাকতেও আজ তাঁরা শরণার্থী। নিজের জমি-জায়গা ছেড়ে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পাশের জেলায়। অনেকে আবার আত্মীয়-স্বজনকে ছেড়েই রয়েছেন শরণার্থী শিবিরে। নিজেদের লোকের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। নিজের রাজ্যেই আজ তাঁরা উদ্বাস্তু।
মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে অশান্তি শুরু হওয়ার পর থেকে বহু মানুষকে দেখা গিয়েছে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে নৌকা করে পাড়ি দিয়েছেন পাশের জেলা মালদায়। সেখানেই নিজেদের প্রাণটুকু রক্ষা করতে চেয়েছেন তাঁরা। মালদার বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের পারলালপুর হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। সাহস করে বাড়ি ফিরতেও পারছেন না।
অশান্তির আগুন জ্বলছে মুর্শিদাবাদে। সামশেরগঞ্জ সহ ধুলিয়ান পৌরসভার ১৬ নম্বর এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা গঙ্গা পার হয়ে আশ্রয় নিয়েছে এই স্কুলে। আশ্রিত এই সমস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করেছেন ধুলিয়ান পুরসভার ১৬ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বহু মানুষ। কেউ এসেছিলেন মায়ের সঙ্গে দেখা করতে, কেউ এসেছিলেন মায়ের কোলে শিশুকে তুলে দিতে আবার কেউ এসেছিলেন বৃদ্ধা শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখতে।
অশান্ত মু্র্শিদাবাদের এই সমস্ত বাসিন্দারা জানান, এখনো শান্ত হয়নি মুর্শিদাবাদের বহু জায়গা। দিন কেটে গেলেও রাতের অন্ধকার কাটে আতঙ্কে। ঘুম আসে না এখনো। মাঝেমধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে এলাকায় এলাকায়। দিনের বেলায় বাড়ির বাইরে বের হলেও, রাতে বাইরে থাকতে কেউ চাইছে না। সকলেই আতঙ্কিত।
জানা গিয়েছে, ওই শিবিরে প্রায় ৩১০-৩২০ জন রয়েছেন। কিছু লোক মুর্শিদাবাদে না ফিরে মালদা এবং ঝাড়খণ্ডে আত্মীয়দের বাড়িতে উঠেছেন। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের দাবি, মালদহ থেকে কয়েকটি পরিবার এবং ফরাক্কা-সহ অন্য এলাকা থেকে আরও বেশ কয়েকটি পরিবার বাড়িতে ফিরেছে। কিন্তু অনেকেই ভুগছেন আতঙ্কে।
অন্যদিকে, স্কুলে এতলোক আশ্রয় নেওয়ার কারণে বন্ধ রয়েছে পঠন পাঠন। স্কুল ফাঁকা না হওয়া পর্যন্ত পড়ুয়াদের নিয়ে আসা সম্ভব নয় বলে জানা গিয়েছে।