নিজস্ব প্রতিনিধি, সুতি: মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ প্রতিবাদে যে হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল সেই স্থান পরিদর্শন করতে দু’দিনের সফরে গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম সোমবার বহরমপুর গিয়ে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সেখান থেকে যান সুতি’তে তাঁর সভা শুরু করেন। সেখানে মুর্শিদাবাদের হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেন প্রতীকী চাবি। এবং মুখ্যমন্ত্রীর ‘বাংলার বাড়ি প্রকল্পের’ কথাও তাঁদের বলেন।
সুতি’র সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কাশ্মীরের জঙ্গি হামলায় শহিদ হওয়া ঝন্টু শেখের পরিবারের পাশেও দাঁড়ান। মমতা এই দিন শহিদ জওয়ানের স্ত্রীকে সরকারি হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মাননীয়া। মমতা আরও জানান, ঝন্টু শেখের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্বও নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।
মঙ্গল বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদে ১৬৭ প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন। তার পাশাপাশি মোট ৭১৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণাও করেছেন তিনি।
তিনি সভা থেকে জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদে ১৭৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, সুতি, ধুলিয়ান এবং ফরাক্কার মানুষদের জন্য নতুন মহকুমা অফিস গঠনের কাজ শুরু করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা এদিন বলেন, “বিজেপি কিংবা কোনও মৌলবাদী সংগঠনের কথা শুনে প্ররোচিত হবেন না। আপনারা নিজেরা ভাগ হওয়ার থেকে আমার গলাটা দেহ থেকে ভাগ করে দিন। তাতে আমি খুশি হব।”
মুখ্যমন্ত্রী বলছেন বাংলায় কথা বললে অনেক পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তাই এই সভা থেকে তিনি, বিভিন্ন রাজ্যে কর্মরত বাংলার শ্রমিকদের নিজ রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছিল, ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন থেকেই এই হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল মুর্শিদাবাদে। সেই জেলাতে সভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ওয়াকফ নিয়ে আমাদের এখানে কোনও প্রশ্ন নেই। এই নিয়ে আমি কিছু বলব না। ওয়াকফ নিয়ে বলার থাকলে দিল্লিতে যান। বাংলায় আমি আছি মাথায় রাখবেন।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, তাঁর সরকার কোনও ধর্মেরই সম্পত্তি অধিগ্রহণের পক্ষে নয়।