নিজস্ব প্রতিনিধি: কেন্দ্র সরকার বাংলার ১১ লক্ষ মানুষকে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার মাধ্যমে বাড়ি করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তার জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাংলার বুকে আবাসের সমীক্ষা(Housing Survey) হয়েছিল। সেই সমীক্ষার পরে কেন্দ্র সরকার বাংলায়(Bengal) ১১ লক্ষ গরিব মানুষের বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়ার প্রশাসনিক অনুমোদন দিতে রাজী হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যায়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের যাচাইয়ের পরে চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা বা Permanent Waiting List তৈরি করেছিল রাজ্য। তাতে নাম ছিল প্রায় ৩৪ লক্ষ বাড়ি তৈরির আবেদনকারীর। তারপর আদালতে মামলা সহ একাধিক কারণে এই তালিকায় যুক্ত হয় আরও ১ লক্ষ নাম। ফলে এই ৩৫ লক্ষের পাশাপাশি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী সেলে যারা বাড়ি তৈরির জন্য সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করেছিলেন তাঁদের বাড়ি করে দিতে এগিয়ে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন সরকার। সেই সূত্রেই বাংলার বুকে এখন ৫টি জেলা বাদ দিয়ে সর্বত্র চলছে আবাসের সমীক্ষা। এবার রাজ্য সরকার জানিয়ে দিল, বাংলা আবাস প্রকল্পের জন্য কোনও কেন্দ্রীয় শর্ত(Central Conditions) লাগু করা হবে না।
আরও পড়ুন, ‘ট্রমা সেন্টারের গ্লাভসের লাল দাগ রক্তের নয়’, জানালেন আর জি কর হাসপাতালের সুপার
চলতি বছরের প্রথমদিকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, কেন্দ্র সরকার বাংলার মানুষকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য টাকা না দিলে সেই টাকা রাজ্য সরকারই দেবে। সেই মতন বাংলা আবাস যোজনার(Bangla Awas Yojna) মাধ্যমে এই আবাস উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর জন্য রাজ্য সরকার প্রত্যেক উপভোক্তাকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। ৩ দফায় সেই টাকা দেওয়া হবে। প্রথম দফায় দেওয়া হবে ৬০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় দফায় দেওয়া হবে ৪০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় দফায় দেওয়া হবে ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে রাজ্যের প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষের মাথায় পাকা ছাদ তৈরি করে দিতে রাজ্য সরকারের খরচ পড়ছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা সম্পূর্ণ ভাবে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে যাবে। কারা কারা আবাসের এই সুবিধা পাওয়ার উপযুক্ত তা খতিয়ে দেখার জন্য এখন গ্রামে গ্রামে সমীক্ষার কাজ চলছে। সেই কাজের মধ্যে বিজেপির নেতাকর্মীরা দাবি তুলছেন একাধিক জায়গায় যে, কেন্দ্র সরকারের তৈরি করে দেওয়া শর্ত মেনেই আবাসের সুবিধা দিতে হবে উপভোক্তাদের। সেই সব দাবির কথা পৌঁছে গিয়েছে নবান্নেও।
আরও পড়ুন, অসুস্থ জেলবন্দী পার্থ, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে দেখে এল মেডিকেল টিম
এর জেরেই এদিন রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে বাংলা আবাস যোজনার মাধ্যমে। সেই প্রকল্প রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্প। সেখানে কেন্দ্রের ১ পয়সাও নেই। ৩৫ লক্ষ মানুষের মাথায় পাকা বাড়ি তৈরি করে দিতে রাজ্যের মোট খরচ হবে ৪২ হাজার কোটি টাকা। সেই টাকা রাজ্যের কোষাগার থেকেই যাবে। সেখানে কেন্দ্রের সামান্যতম অংশিদ্বারিত্ব নেই। আর তাই সেই প্রকল্পে কেন্দ্রের কোনও শর্ত আরোপিত হবে না। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে যে যে মানদণ্ড তৈরি করে দিয়েছে সেটা মেনেই দেখা হবে কারা প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারে, আর কারা পারে না। যদি কেউ জোর করে কেন্দ্রের শর্ত আরোপ করতে চায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেও এদিন জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে রাজ্য। ঘটনা হচ্ছে, রাজ্যের ৩৫ লক্ষ পরিবার যদি রাজ্য সরকারের হাত ধরে মাথার ওপর পাকা ছাদ পেয়ে যায়, তাহলে কী তাঁরা আর কোনওদিন কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে থাকবে না বিজেপিকে ভোট দেবে! অন্তত ৩০ লক্ষ পরিবার তখন তৃণমূলকেই আঁকড়ে ধরবে। সেটা বুঝেইউ এখন গেরিয়া শিবিরের নেতাকর্মীরা উঠে পড়ে লেগেছে আবাসের সমীক্ষঅ্যায় ঝামেলা পাকাতে। সেটা বুঝেই এবার রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থান, বাংলা আবাস প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় শর্ত লাগু করা হবে না।