নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলার(Bengal) সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই ডিভিসি(DVC) জল ছেড়ে দিয়েছে। তাতে সায় আছে ঝাড়খণ্ডেরও। আর ডিভিসির ছাড়া সেই জলেই ডুবেছে দক্ষিণবঙ্গের(South Bengal Flooded) একটা বড় অংশ। গত ২ দিন বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বেড়িয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) এই ঘটনাকে কার্যত ‘Man Made Flood’ হিসাবেই চিহ্নিত করেছেন। শুধু তাই নয়, যেভাবে ঝাড়খণ্ডের(Jharkhand) রাজ্য সরকার নবান্নের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই তাঁদের অধীনে থাকা বেশ কিছু জলাধার থেকে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার দরুণ চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। সেই ক্ষুব্ধতার জেরেই গতকাল তিনি বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বেড়িয়ে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমানা সিল(Border Sealed) করে দেওয়ার জন্য। সেই নির্দেশের জেরে গতকাল রাত থেকেই দুই রাজ্যের সীমানা সিল করে দিয়েছে বাংলার পুলিশ প্রশাসন। আর তার জেরে এখন ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় আসার যাবতীয় সব জাতীয় সড়কে সার দিয়ে আটকে পড়েছে শয়ে শয়ে লরি।
আরও পড়ুন, সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল সিবিআইয়ের, আবেদন প্রত্যাহারের নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
জানা গিয়েছে, গতকাল মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ার পরে পরেই পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং বীরভূমের বুকে থাকা বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের সংযোগকারী বিভিন্ন জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক ও নাকা চেক পোস্টগুলিতে কড়া নজরদারি শুরু করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে যে সমস্ত গাড়ি বাংলার দিকে আসছিল, সেগুলি গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই সেই সব রাস্তায় আটকে পড়ে যায়। তবে যাত্রীবাহি গাড়ি ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা গাড়িগুলিকে ছাড়া হচ্ছে। এর দরুণ আবার বাংলার বুকে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তবে কতদিন এই ব্যবস্থা চলবে তা নিয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানা যায়নি। তবে নবান্ন সূত্রে পাওয়া খবর, দক্ষিণবঙ্গে বন্যার জল নেমে গেলে বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানা সিল করার বিষয়টি শিথিল করার নির্দেশ দিলেও দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় সব থেকে বেশি পণ্য আসে পশ্চিম বর্ধমান জেলার ৫টি চেক পোস্ট দিয়ে। সেই চেকপোস্টগুলিও বন্ধ হয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন, ৪ বছরে বাংলায় এসেছে ১৩ হাজার কোটি টাকার বিদেশী বিনিয়োগ
জানা গিয়েছে, যে ৫টি চেকপোস্ট সিল করে দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল – ধানবাদ-আসানসোলের সংযোগকারী কল্যাণেশ্বরী-ডুবুডিহি চেকপোস্ট, বরাকর নদের ওপর থাকা চিরকুণ্ডা-বরাকর চেকপোস্ট, ঝাড়খণ্ডের নলা-বারাবনির ওপর থাকা রুনাকুড়া ঘাট চেকপোস্ট, জামতাড়া-রূপনারায়ণপুর চেকপোস্ট ও মাইথন ড্যাম পেরিয়ে কল্যাণেশ্বরী রোডের নাকা চেকপোস্ট। এই সব জায়গায় এখন শয়ে শয়ে লরি আটকে গিয়েছে। আর এর জেরে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছে আটকে পড়া লরির চালকেরা। লরি আটকে দেওয়ার ঘটনা জানতে পেরে গতকাল রাতেই ওই সব চেকপোস্টে ছুটে আসেন ঝাড়খণ্ডের প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাঁরা জানতে চান, কেন আটকে দেওয়া হচ্ছে গাড়ি? তখন পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই ঘটনা ঘটেছে। সূত্রের দাবি, এখন ঝাড়খণ্ড রাজ্য প্রশাসনের তরফে সমস্যা সমাধানের জন্য কেন্দ্র সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের কোনও বিবৃতি মেলেনি।