নিজস্ব প্রতিনিধি, খানাকুল: পুলিশের সাহায্যে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে ফিরে পেলেন বৃদ্ধা মা। প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। বহু খোঁজ করেও হদিশ মেলেনি একমাত্র থেলের। হতাশা ঘিরে ধরেছিল বৃদ্ধাকে। ছেলেকে আর কোনওদিন দেখতে পাবেন, ভাবতেই পারেননি। পুলিশের সাহায্যে সেই আশাও পূর্ণ হয়েছে।
জানা গিয়েছে, খানাকুলের রামনগর এলাকার বাসিন্দা বছর ২৫-র জয়ন্ত মালিক গত সাড়ে তিন বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হওয়ায় বাড়ি চিনে ফিরে আসতেও পারেননি। বাধ্য় হয়ে প্রতিবেশীদের সাহায্যে খানাকুল থানার দ্বারস্থ হন বৃদ্ধা। তারপরেই খানাকুল থানার ওসি হামিদুর রহমান, বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলেন। কবে শেষ ছেলেকে দেখেছেন জানতে চান। সঙ্গে নিখোঁজ যুবকের ছবি ও বিবরণ নিয়ে নেন। ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বসও দিয়েছিলেন। পুলিশের আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি পেলেও মনের কোণায় ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিলই। একটা সময় সব আশা হারিয়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, হামিদুর রহমান তল্লাশি ও খোঁজখবর চালিয়ে গিয়েছেন। গোপন সূত্রকে কাজে লাগিয়ে খুঁজে বের করেছেন ওই মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় যুবককে। ওই যুবক জয়ন্ত অসমের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে খানাকুল থানা। ইতিমধ্যে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই যুবককে। ছেলের খবর পেয়েই চিন্তা দূর হয়েছে বৃদ্ধার। দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর পর ছেলেকে কাছে পেয়ে পুলিশের কাজে প্রশংসা করেছেন মা। ওই বৃদ্ধার হাতে প্রয়োজনীয় কিছু খাবার তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, থানার বড়বাবুই ফিরিয়েছেন খেপা ছেলেকে। পুলিশের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু ছেলে কীভাবে অসমে পৌঁছে গেল তা বুঝতে পারছেন না বৃদ্ধা।