নিজস্ব প্রতিনিধি, হরিশ্চন্দ্রপুর : মধ্যযুগীয় আইন মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। পারিবারিক বিবাদের জেরে সালিশি সভার আয়োজন। ওই সভায় উপস্থিত না হতে পারার কারণে একটি পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার নিদান গ্রামের মাতব্বরদের। অবাক লাগছে তো? হ্যাঁ, অবাক হওয়ার মতোই ঘটনা। যুগটা আধুনিক হলেও, এখনও প্রত্যন্ত বহু এলাকায় চলে মধ্যযুগীয় রাজত্ব। মানুষের ওপরে নির্বিচারে অত্যাচার করা থেকে শুরু করে সব ধরনের বর্বরতা চলতে থাকে।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সিমলা এলাকা এমনই ঘটনার সাক্ষী। সালিশি সভায় হাজির না হওয়ায় বাবা-মা ও দু’ছেলেকে বেধরক মারধর করা হয়। এখানেই শেষ নয়, ওই পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার নিদান দিয়েছে গ্রামের মোড়ল মাতব্বররা। রীতিমত মাইকিং করে সামাজিকভাবে বয়কট করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের সিমলা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,বা ড়িতে আত্মীয় আসাকে কেন্দ্র করে মেজো ছেলের সঙ্গে বাবা-মায়ের বিবাদকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূচনা। বাবা-মায়ের নামে বিচার দিয়েছিলেন মেজো ছেলে। সালিশি সভায় উপস্থিত না হওয়ার কারণে ওই পরিবারটিকে বেধরক মারধর করে এবং মসজিদে মাইকিং করে একঘরে করার নিদান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রামের মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। জখম অবস্থায় বড় ছেলে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অভিযোগ, বাড়ি থেকে বেরোতে পারছে না পরিবারটি। কেউ এগিয়েও আসছে না সাহায্যের জন্য। একঘরে করে রাখার নিদানের পর পরিবারের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ রাখছেন না। সমাজের সবকিছু থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে তাঁদের। এই ঘটনায় আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সবচেয়ে বৃদ্ধ ব্যক্তি। এই ঘটনায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার দ্বারস্থ পরিবারটি। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তে নেমেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।