নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- সন্দেশখালি জুড়ে সাজ সাজ রব। নিরাপত্তার চক্রব্যূহে মোড়া রয়েছে গোটা এলাকা। সেই সঙ্গে সেজে উঠেছে ঋষি অরবিন্দ মিশন মাঠ। কারণ, সোমবার কথা রেখে সন্দেশখালি গ্রামে পা রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুর ১টা নাগাদ সেখানে নামবে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। মাঠের এক কোণে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী হেলিপ্যাড। শনিবার ওই হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টার ওঠা ও নামার মহড়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতির তদারক করছিলেন সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতো। তিনি বলেন, ‘সন্দেশখালিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দলীয় কর্মসূচিতে আসছেন না। এটা একটি প্রশাসনিক সভা। তবে ওই সভায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার থাকছে।’ বিধায়কের সংযোজন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ২০ হাজার মানুষ যাতে বসতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অনুমান করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের ভিড় হবে।’ সেই সঙ্গে বিধায়ক সুকুমার মাহাতো আরও জানান, প্রশাসনিক সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সবুজ সাথী সাইকেল তুলে দেবেন নবম ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের হাতে। তা ছাড়া, আবাস যোজনার ঘরের চেক, মৎস্যজীবীদের জন্য নৌকো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং ই–রিকশাও মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চ থেকে সুবিধাপ্রাপকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এ বছরের গোড়ায় এলাকায় তৃণমূলের তখনকার নেতা শেখ শাহজাহান ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের অত্যাচার ও জোরজুলুমের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালি। মহিলাদের অসম্মান ও জমি দখলের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। গ্রামের মহিলারা প্রতিবাদে মখুর হয়ে উঠেছিলেন। সেই সময় প্রত্যেকেই চেয়েছিলেন যে একবার গ্রামে আসুন মুখ্যমন্ত্রী। এর জেরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল বিধায়ক সুকুমার মাহাতকে। পরে মুখ্যমন্ত্রী সন্দেশখালি যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই বছরের শেষে গ্রামের মুখ্যমন্ত্রী আসায় হাসি ফুটেছে রাজ্যস্তরীয় নেতাদের মুখে। ‘কথা দিলে, কথা রাখেন মুখ্যমন্ত্রী’ বলে দাবি করছেন গ্রামের তৃণমূল নেতারা।