নিজস্ব প্রতিনিধি : পিসি শাশুড়িকে খুন করার অভিযোগে মা ও মেয়েকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল বারাসাত জেলা আদালত। মধ্যমগ্রাম বিরেশ পল্লী এলাকায় যে বাড়িতে ভাড়া থাকত ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতী ঘোষ এই বাড়িতেই ইট দিয়ে থেঁতলে পিসি শাশুড়িকে খুন করার অভিযোগ ওঠে। তারপর টলি ব্যাগে ভরে গঙ্গায় ফেলার আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতি ঘোষ। আজ ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতি ঘোষ বারাসাত জেলা আদালতে নিয়ে আসা হলে সন্ধে ছটা নাগাদ ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় বারাসাত জেলা আদালত।
বৃহস্পতিবারই(২৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রলি-কাণ্ডের মা ও মেয়েকে তোলা হয়েছিল বারাসত কোর্টে। পুলিশ জানিয়েছিল, টিআই প্যারেডের আবেদন জানাবে।টিআই প্যারেড শেষ হলে মা ও মেয়েকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার(২৭ ফেব্রুয়ারি)দুই অভিযুক্তকে অন্য মহিলাদের সঙ্গে একই সারিতে দাঁড় করিয়ে সাক্ষীদের দ্বারা চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। যে ট্রলি ব্যাগে দেহটি ভরা হয়েছিল, সেটিকেও চিহ্নিতকরণ করা হবে।
গতকাল বুধবার(২৭ ফেব্রুয়ারি)ট্রলি-কাণ্ডে অভিযুক্ত মা ও মেয়েকে কলকাতার নগর দায়রা আদালতে হাজির করানো হয়েছিল।তাঁদের এক দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।বৃহস্পতিবারই অভিযুক্তদের জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আদালতের তরফে কলকাতা পুলিশকে এই সংক্রান্ত কেস ডায়েরি মধ্যমগ্রাম পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।অভিযুক্তেরা মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা এবং মূল ঘটনাও সেখানে ঘটেছে, তাই তদন্তভার মধ্যমগ্রাম থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়টা পুনরায় খতিয়ে দেখছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ।
মধ্যমগ্রামের বৃদ্ধা খুন কাণ্ডে উত্তাল গোটা এলাকা। এই ঘটনায় হাতেনাতে পাকড়াও হয়েছে মা ও মেয়ে। দুই মহিলা অভিযুক্তকে জেরার মুখে উঠে এসেছিল ওই দেহ এক বৃদ্ধার। বৃদ্ধা সম্পর্কে পিসিশাশুড়ি হন। দুই মহিলার নাম ফাল্গুনী ঘোষ এবং আরতি ঘোষ। পুলিশি জেরায় তারা স্বীকার করেছিল পিসিশাশুড়ির দেহ ট্রলিতে ভরে ফেলতে এসেছিলেন গঙ্গায়!মধ্যমগ্রামকাণ্ডে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন পুলিশ। সেই হিসেবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গোয়েন্দারা।