নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারত-পাক উত্তেজনার কারণে এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)। অনেকে ভেবেছিলেন যে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা হয়তো বাকি ম্যাচের জন্য ফিরবেন না। যেমন দিল্লি ক্যাপিটালসের তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক ধরমশালায় ম্যাচ মাঝপথে বাতিল হওয়ার পর দল ছেড়ে চলে যান। কিন্তু জশ হেজলউড, যিনি কাঁধের চোট থেকে সেরে উঠেছেন, ফিরে এসে দারুণ পারফর্ম করেছেন। যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা, ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC) ফাইনালের প্রস্তুতির জন্য দল ছেড়েছেন, সেখানে হেজলউড বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম কোয়ালিফায়ারে পঞ্জাব কিংস (PBKS)-এর ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংস করেছেন। আর দলকে ফাইনালে তোলার পরেই তিনি যা বলেছেন, তাতে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
কী বলেছেন অজি পেসার?
ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে হেজলউড আইপিএল প্রতিযোগিতার প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আইপিএল (IPL) টেস্ট ম্যাচের জন্য তৈরি হওয়ার সেরা জায়গা। আমি যেখানেই থাকি, বোলিং করে যাব। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে বোলিং করা জরুরি।’ প্রথম কোয়ালিফায়ারে তিনি টেস্ট ম্যাচের মতোই বোলিং করেছেন বলে জানিয়ে অজি পেসার বলেন, ‘আমি টেস্ট ক্রিকেটে যেভাবে বোলিং করি, আজ রাতেও খুব একটা আলাদা করিনি,” বলেন তিনি।
সীমান্ত সংঘাতের কারণে খেলা বন্ধ হওয়ায় অনেক খেলোয়াড় WTC ২০২৫ ফাইনালের প্রস্তুতির জন্য ক্যাম্পে যোগ দিতে দল ছেড়েছেন। কিন্তু জশ হেজলউড RCB এর সঙ্গে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তার এই সিদ্ধান্ত অন্য বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় বার্তা, এমনকি তার দেশের সতীর্থদের জন্যও। তিনি দেখিয়েছেন যে IPL এর মতো বড় মঞ্চে খেলে দক্ষতা বাড়ানো যায়, যা টেস্ট ক্রিকেটের জন্যও উপকারী।
বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন হেজলউড। তিনি নতুন বলে শ্রেয়স আইয়ার (অধিনায়ক) এবং তার স্বদেশী অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় জশ ইংলিস-এর উইকেট তুলে নেন। এরপর তিনি আজমতুল্লাহ ওমরজাইকেও আউট করেন এবং পঞ্জাবকে মাত্র ১০১ রানে অলআউট করে দেন। এই ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (RCB) পঞ্জাবকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চতুর্থবার IPL ফাইনালে পৌঁছে যায়।
হেজলউড চলতি মরসুমে আরসিবির হয়ে ৪টি ম্যাচ মিস করলেও, ১১টি ম্যাচে ২১টি উইকেট নিয়েছেন। তার গড় ১৫.৮০ এবং ইকোনমি রেট ৮.৩০ রান প্রতি ওভার। কাঁধের চোট থেকে ফিরে এসে তিনি এত ভাল পারফরম্যান্সে খুশি। সাফল্য প্রসঙ্গে অজি পেসার বলেছেন, ‘গত ১০ দিনে আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি, কাঁধের জন্য অনেক ওভার বোলিং করেছি। আজ রাতে আমি খুশি, উইকেটও আমাকে সাহায্য করেছে।’