নিজস্ব প্রতিনিধি: অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ও বেঙ্কটেশ আইয়ারের বিধ্বংসী ব্যাটিং কাজেই এল না। মাঝের এবং নিচের সারির ব্যাটারদের কাণ্ডজ্ঞানহীনতায় মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল)ঘরের মাঠেই লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান তুলেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। জবাবে সাত উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রানেই থমকে গেল কেকেআর।
টসে জিতে এদিন প্রথমে লখনউকে ব্যাট করতে পাঠান নাইটদের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। কিন্তু তাঁর সেই সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়ে যায়। শুরু থেকেই বৈভব আরোরা-স্পেন্সার জনসনদের পিটিয়ে ছাতু করতে শুরু করেন লখনউয়ের দুই ওপেনার আইডেন মার্করাম ও মিচেল মার্শ। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে অর্থাৎ ছয় ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৫৯ রান তোলে লখনউ। ১১ তম ওভারে বল করতে এসে বিধ্বংসী মার্করামকে (২৮ বলে ৪৭) ফিরিয়ে ৯৯ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙে কলকাতাকে খানিকটা স্বস্তি এনে দেন হর্ষিত রানা। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। উল্টে চাপ কাটিয়ে উঠতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন মার্শ ও পুরান। ইডেনের মাঠে চার ও ছক্কার ফুলঝুরি ছোটান দুই বিদেশি ব্যাটার। মারের চোটে লাইন-লেংথ হারিয়ে ফেলেন কলকাতার বোলাররা। চারটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৩৬ বলেই নিজের অর্ধশতরানে পৌঁছে যান মার্শ। পুরানের তাণ্ডবে মাত্র ১৯ বলেই দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রান যোগ হয়। শেষ পর্যন্ত মার্শের তাণ্ডব থামান আন্দ্রে রাসেল। আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৪৮ বলে ৬টি চার ও চারটি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার।
মার্শ ফেরার পর আরও খুনে মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকেন নিকোলাস পুরান। তার তাণ্ডবে রীতিমতো অসহায় দেখাচ্ছিল কলকাতার বোলারদের। মাত্র ২১ বল দুটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ব্যক্তিগত অর্ধশতরান তুলে নেন পুরান। ১৭.৩ ওভারেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় লখনউ। ১৯তম ওভারে বল করতে এসে আবদুল সামাদকে (৬) ফেরান হর্ষিত। শেষ পর্যন্ত ২৩৮ রানে পৌঁছয় লখনউ। ৩৬ বলে ৮৭ রান করে অপরাজিত থাকেন পুরান। ডেভিড মিলার অপরাজিত থাকেন ৪ বলে চার রান করে।
ঘরের মাঠে জয়ের জন্য ২৩৯ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চালিয়ে খেলতে শুরু করেন নাইটদের দুই ওপেনার কুইন্টন ডি’কক এবং সুনীল নারাইন। অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে তৃতীয় ওভারেই আকাশ দীপের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরে যান ডি’কক (৯ বলে ১৫)। এর পর জুটি বেঁধে লখনউয়ের বোলারদের বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালান সুনীল নারাইন ও অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ৯০ রান ওঠে। সপ্তম ওভারে নারাইনের তাণ্ডবলীলা থামান দিগবেশ সিংহ। ১৩ বলে ৩০ করে ফেরেন ক্যারিবীয় ব্যাটার।
এর পর জুটি বেঁধে দলকে সামনের দদিকে এগিয়ে নিয়ে যান অজিঙ্ক রাহানে ও বেঙ্কটেশ আইয়ার। ৭.২ ওভারেই দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন দুজনে। ২৬ বলে সাতটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রাহানে। শেষ পর্যন্ত নাইট অধিনায়ককে সাজঘরে ফেরান শার্দূল ঠাকুর। ৩৪ বলে ৬১ রান করে আউট হন রাহানে। আর তিনি ফেরার পরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে কেকেআরের ব্যাটিং অর্ডার। পরের ওভারেই ফেরেন ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে পাঠানোর আবদার জানানো রমনদীপ সিংহ। তাঁর অবদান ২ বলে ১। পরের ওভারে আবেশ খানের বলে সাজঘরের পথ ধরেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী (৫)। দুই বলের মাথায় ফিরে যান ভাল খেলতে থাকা বেঙ্কটেশ আইয়ার (৪৫)। দলের পক্ষে বোঝা হয়ে ওঠা আন্দ্রে রাসেল রান করতেই ভুলে গিয়েছেন। বিশাল চেহারা নিয়ে নড়াচড়া করতেই পারছেন না। দদলকে চরম বিপদে ফেলে ৪ বলে ৭ রান করে ফিরে যান। ২৩ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে নাইট রাইডার্স। অষ্টম উইকেটে জুটি বেঁধে রিঙ্কু সিংহ ও হর্ষিত রানা দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দদরকার ছিল ২৪ রানের। তা তুলতে পারেননি দুজনে। শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রিঙ্কু ও হর্ষিতকে। দুজনে ৩৮ ও ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। লখনউয়ের হয়ে শার্দূল ঠাকুর ৫২ রানে এবং আকাশ দীপ ৫৫ রানে দুটি করে উইকেট নেন।