নিজস্ব প্রতিনিধি, চেন্নাই: নূর আহমদ আর খলিল আমেদের দুরন্ত বোলিংয়ের দৌলতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে অল্প রানেই বেঁধে রেখেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। কিন্তু ঘরের মাঠে জয়ের জন্য সহজ লক্ষ্যকে হাসিল করতে গিয়ে ঘাম ঝরাতে হল ঋতুরাজ গায়কোয়াড়দের। ২৪ বছরের তরুণ বোলার ভিগনেশ থুপুরের বল সামলাতে নাকানিচোবানি খেতে হল চেন্নাইয়ের নামী-দামী ব্যাটারদের। তবে অঘটন ঘটতে দেননি রাচিন রবীন্দ্র। তাঁর ৪৫ বলে অপরাজিত ৬৫ রান চেন্নাইকে প্রথম ম্যাচে জয় এনে দিয়েছে।
জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৫৬ রান। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় চেন্নাই। দ্বিতীয় ওভারে দীপক চাহারের বলে রায়ান রিকেলটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাহুল ত্রিপাঠী (২)। এর পর দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে সেই ধাক্কা অনেকটাই সামাল দেন রাচিন রবীন্দ্র ও চেন্নাই অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। ক্রিজের এক প্রান্ত আগলে ছিলেন রাচিন। অন্য প্রান্তে মারমুখী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন ঋতুরাজ। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে অর্থাৎ ৬ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ৬২ রান তুলেছিল চেন্নাই। মনে হচ্ছিল, দ্রুত ম্যাচ শেষ করে হোটেলে ফিরে আয়েস করেই নৈশভোজ সারার পরিকল্পনা নিয়েছেন দুজনে। কিন্তু অর্ধশতরান করার পরেই অকারণে মারমুখী হতে গিয়ে ভিগনেশ পুথুরের বলে উইল জ্যাকসের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরে যান চেন্নাই অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে ২৬ বলে ছয়টি চার ও তিনটে ছক্কার সাহায্যে ৫৩ রান করেন।
কিন্তু তখনই ম্যাচে নাটকীয় মোড় ঘোরে। ঋতুরাজ আউট হওয়ার পরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে চেন্নাইয়ের মিডল অর্ডার। ২৪ বছরের ভিগনেশের ঘুর্ণি সামলাতে হিমশিম খেতে থাকেন শিভম দুবে (৯), দীপক হুদা (৩), সাম কুরানরা (৪)। পর পর উইকেট পড়তে থাকায় চাপে পড়ে যায় চেন্নাই। তবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে একদিক সামলে রেখেছিলেন রাচিন। একের পর এক সতীর্থকে ফিরে যেতে দেখে চাপ কাটানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ৪২ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। ১৯তম ওভারে তাড়াহুড়ো করে রান নিতে গিয়ে আউট হয়ে যান রবীন্দ্র জাদেজা (১৭ বলে ১৭)। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল চার রানের। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে চেন্নাইয়ের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান রাচিন। তিনি ৪৫ বলে ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।