নিজস্ব প্রতিনিধি, ম্যাঞ্চেস্টার: অধিনায়ক শুভমন গিল ও লোকেশ রাহুলের মাটি কামড়ে থেকে লড়াইয়ের ফলে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চতুর্থ দিনের শেষে খানিকটা স্বস্তিতে ভারত। দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের রান দুই উইকেট হারিয়ে ১৭৪। ৮৭ রানে অপরাজিত রাহুল। আর ৭৮ রানে অধিনায়ক গিল। ইনিংস হার বাঁচাতে আরও ১৩৭ রান চাই ভারতের। হাতে রয়েছে আর একদিন। দুই ব্যাটারের উপরেই নির্ভর করছে দলের ভবিষ্যত।
শুক্রবার তৃতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল সাত উইকেট হারিয়ে ৫৪৪। অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক বেন স্টোকস (৭৭) ও লিয়াম ডসন (২১)। ১৮৬ রানে এগিয়ে থেকে শনিবার চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ইংরেজরা। যদিও বেশিদূর এগোতে পারেননি আট বছর বাদে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জায়গা করে নেওয়া ডসন। আগের দিনের ব্যক্তিগত স্কোরের সঙ্গে মাত্র ৫ রান যোগ হওয়ার পরেই যশপ্রীত বুমরাহের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ডসন ফেরার পর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক স্টোকস। ভারতীয় বোলারদের অনায়াসে সামলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। আর ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট শতরান করতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক খেলেছেন ১৬৭ বল। নবম উইকেটে ব্রাইডন কার্স ও স্টোকস জুটি বেঁধে দলকে ৬০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন।
দল রানের পাহাড়ের উপরে দাঁড়ানোয় হাত খুলে মারতে শুরু করেন স্টোকস। তবে অতিরিক্ত আগ্রাসী হতে গিয়েই রবীন্দ্র জাদেজার বল তুলে মারতে গিয়ে আউট হন। বাউন্ডারির কাছে ক্যাচ ধরলেন সুদর্শন। ১৪১ রানে ফেরেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ১০ নম্বরে নামা ব্রাইডন কার্স দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েচিলেন। তবে স্টোকস ফেরার খানিকবাদে তিনিও ফেরেন জাদেজার বলে। সাজঘরে ফেরার আগে ৫৪ বলে ৪৭ রান করেন। কার্সের ইনিংস সাজানো ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কায়। জোফ্রা আর্চার ২ বলে অপরাজিত থাকেন। ভারতের হয়ে রবীন্দ্র জাদেজা ১৪৩ রানে চার উইকেট নিয়েছেন।
৩১১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ভারত। কিন্তু প্রথম ওভারেই জোড়া ধাক্কা দেন ক্রিস ওকস। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে পর পর ফিরিয়ে দেন যশস্বী জয়সোয়াল ও সাই সুদর্শন। টিম ইন্ডিয়ার দুই তরুণ ব্যাটারই শূন্য রানে আউট হয়ে যান। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে হয়তো লজ্জাজনক হারের রেকর্ড গড়তে চলেছে ভারত। কিন্তু কেএল রাহুল ও অধিনায়ক শুভমন গিল তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে ইংরেজ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।