নিজস্ব প্রতিনিধি: চাপের মুখে নীতীশকুমার রেড্ডি ও ওয়াশিংটন সুন্দরের ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ের দৌলতে খানিকটা হলেও সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছল ভারতের প্রথম ইনিংস। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৭৪ রানে শেষ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। জবাবে তৃতীয় দিনের শেষে ৯ উইকেট খুঁইয়ে ৩৫৮ রান তুলেছে রোহিত বাহিনী। খারাপ আলোর জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অবশ্য খেলা বন্ধ করে দিতে হয়। ১০৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন নীতীশ।আর তাঁর সঙ্গে ২ রানে অপরাজিত মহম্মদ সিরাজ।
শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতের রান ছিল পাঁচ উইকেট খুঁইয়ে ১৬৪। শনিবার ফলো অনের লজ্জা বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ঋষভ পন্থ ও রবীন্দ্র জাদেজা। কিন্তু বেশি ক্ষণ থিতু হতে পারেননি ঋষভ। স্কট বোলান্ডের বলে মাত্র ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এর পর জুটি বাঁধেন রবীন্দ্র জাদেজা ও নীতীশ রেড্ডি। দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। ঋষভের মতোও জাদেজা দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হন। তখনও ফলো অনের লজ্জা এড়ানোর জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৫৩ রানের। আদৌ টিম ইন্ডিয়া সেই লজ্জা এড়াতে পারবে কিনা, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন।
তখনই বুক চিতিয়ে লড়াই করা শুরু করে দেন দুই তরুণ ব্যাটার নীতীশকুমার রেড্ডি ও ওয়াশিংটন সুন্দর। দুজনেই ধীর-স্থির ভাবে ব্যাট করতে শুরু করেন। অকারণে কোনও ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলেননি। দলকে ফলো অনের লজ্জা থেকে দুই ব্যাটার দলকে বাঁচান। অজিদের আক্রমণ সামলে টেস্ট কেরিয়ারে নিজের প্রথম অর্ধশতরানে পৌঁছে যান নীতীশ। উল্টোদিকে থাকা ওয়াশিংটন সুন্দরও ধীর-স্থির ব্যাটিং করে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। দুজনে মিলে ১২৭ রান যোগ করে দলকে স্বস্তিতে পৌঁছে দেন। ভাল খেলতে খেলতেই নাথান লায়নের বলে সাজঘরে ফেরেন সুন্দর (৫০)।
খানিক বাদে প্যাট কামিন্সের বলে শূন্য রানে আউট হয়ে যান যশপ্রীত বুমরাও। তখন ৯৯ রানে অপরাজিত নীতীশ। স্ট্রাইক এন্ডে এসে দাঁড়ান মহম্মদ সিরাজ। তখনও কামিন্সের তিন বল বাকি ছিল। ফলে নীতীশ টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম শতরান পাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন অনেকেই। অজি অধিনায়কের তিন বল সামাল দেন সিরাজ। পরের ওভারে স্কট বোলান্ডের মুখোমুখি হন নীতীশ। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম শতরানে পৌঁছে যান তরুণ ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত খারাপ আলোর জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ করে দেন আম্পাযাররা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্কট বোলান্ড ও প্যাট কামিন্স তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। বাকি ২টি উইকেট নিয়েছেন নাথান লায়ন।