আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বারংবারের চেষ্টা। তবুও মেটেনি গোল ব্যবধান। এক পক্ষ ৩ টি গোল করলেও অপরপক্ষ ১টির বেশি এগোতে পারেনি। ফলে শেষ হাসি হাসল ডর্টমুন্ড। হারালো বার্সেলোনাকে। চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল প্রথম লেগে ৪-০ ব্যবধানে জিতেছিল বার্সা। কিন্তু বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে দ্বিতীয় লেগে হারল ৩-১ গোলে।
দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। তাতেও হয়েছিল রেকর্ড। এক দশক আগে শেষবার ইউরোপীয় ট্রফি জিতেছিল বার্সা। তারপর আর কিছু নেই। এবছরের সেমিফাইনালে ওঠা দীর্ঘ ছয় বছর পর।
গত সপ্তাহে প্রথম লেগে বড় ব্যবধানে জিতে শেষ চারে এক পা রেখেছে বার্সেলোনা। খুব স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী পথ তো আর মসৃণ থাকবে না। সিগনাল এদুনা পার্কে হানসি ফ্লিকের দলকে বড় ঝড়ই সামাল দিতে হয়েচিল। ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোলকিপার ভয়েচেক সেজনির ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজে বার্সেলোনার বিপক্ষে। আর সেটাকেই কাজে লাগায় ডর্টমুন্ড। তাদের পক্ষ থেকে গোল করে ডর্টমুন্ডকে এগিয়ে দেন সেরহু গিরাসি।
তখনও বার্সেলোনার স্কোরলাইন দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১। ফলে খুব একটা দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়নি তাদের। কিন্তু আক্রমণ এল তারপরেই। একের পর এক আক্রমণে বার্সা রক্ষণকে কার্যত ভেঙে দেয় ডর্টমুন্ড।
ওই সময়ের মধ্যে নিজেরা মাত্র একটি শট নিতে পারলেও ডর্টমুন্ডের লক্ষ্যে শটই মোকাবেলা করতে হয়েছে ৭টি। ২০২৪-২৫ মরসুমে কোনও প্রতিযোগিতার কোনও ম্যাচে বার্সেলোনা প্রথমার্ধে এত খারাপ খেলেনি।
বিরতির পর নতুন উদ্যমে মাঠে নামে ডর্টমুন্ড। ফলে বার্সা হয় আরও বেশি কোণঠাসা। ৪৯তম রামি বেনসেবাইনির হেড পাস থেকে হেডে বল জালে জড়ান গিরাসি। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন কমে আসে ৪-২।
৫৩ মিনিটে একটি গোল পেয়ে ফর্মে ফেরার চেষ্টা করে বার্সেলোনা। ফারমিন লোপেজের বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল ঠেলে দেন প্রথমার্ধে বার্সাকে সবচেয়ে বেশি ভোগানো ডিফেন্ডার রামি। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে ডর্টমুন্ডকে আরেকটি গোল এনে দেন গিরাসি। রোনাল্দ আরাউহো বল গিরাসির পায়ে তুলে দিলে সহজেই জালে জড়িয়ে দেন গিনির এই স্ট্রাইকার। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি গিরাসির ১৩তম গোল।
স্কোরলাইন ৫-৩ ব্যবধানে এনে সমতার জন্য মরিয়া চেষ্টা ছিল ডর্টমুন্ডের। কিন্তু তা হয়নি। ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেও দুই লেগের স্কোরলাইনে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ডর্টমুন্ডকে।
বার্সেলোনা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ২৪ ম্যাচের পর হারের মুখ দেখলেও মাঠ ছেড়েছে হাসিমুখেই। ২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে খেলবে দলটি। সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ-ইন্টার মিলানের মধ্যে যে জয়ী হবে, সেই দল।
ম্যাচের ফলাফল:
ডর্টমুন্ড: ৩
বার্সেলোনা: 1