নিজস্ব প্রতিনিধি : অপেক্ষার আর মাত্র বাকী ১ রাত। আগামীকাল (৭ জুলাই)থেকে শুরু হচ্ছে রথযাত্রা উৎসব। আগামীকাল রথে চড়ে মাসি গুণ্ডিচার বাড়ি যাবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। প্রতি বছর রথযাত্রা উপলক্ষ্যে পুরীতে তিনটি পৃথক রথ প্রস্তুত করা হয়। জগন্নাথদেবের রথের নাম হল ‘নন্দীঘোষ’। বলরামের রথকে বলা হয় তালধ্বজ।সুভদ্রার রথের নাম দেবদলন বা পদ্মধ্বজ।এই রথ তৈরির নিয়মও অভিনব। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু হয় রথ নির্মাণের কাজ।
রথের নিয়ম : নিয়ম অনুযায়ী , প্রতিবছর ২২টি সিঁড়ি বেয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নামানো হয়। যাঁকে বলে ‘বৈশি পঁহচা’। পুরীর মন্দিরের সিংহদুয়ার থেকে কুর্মবেড়া পর্যন্ত এই ‘বৈশি পঁহচা’র প্রতিটি ধাপ খোন্ডালাইট পাথর দিয়ে তৈরি। এই স্থানটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন পুণ্যার্থীরা। রথের অজস্র নানান নিয়ম রয়েছে।
রথ তৈরির নিয়ম : জগন্নাথ দেবের রথ তৈরি করতে সময় লাগে ২ মাস। এই সময়গুলো নিয়ম নীতি মেনে চলতে হয় কারীগরদের। রথ তৈরি করতে সবেচেয়ে প্রথমে দরকার হয় কাঠ।তবে যে সে কাঠ নয় একেবারে নিঁখুত কাঠ লাগে রথ বানাতে। পেরেক বা যে কোনও কাঠ ব্যবহার করা যায় না রথের কাঠে। রথের কাঠ হওয়া চাই সোজা ও খাঁটি।
এইসময় কারিগররা একই সময়ে খান।এই সময়টা তাঁদের নিরামিষ খাবার খেতে হয়।তাঁদের খেতে হয় সাধারণ ঘরোয়া খাবার। অতিরঞ্জিত খাবার খেতে পারেন না তাঁরা। এছাড়াও এইসময়টা কারিগরদের ব্রহ্মচর্য পালন করতে হয়।
রথের কাজ চলাকালীন যদি কারিগরের পরিবারের কোনও সদস্যের সঙ্গে যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে সেই কারিগরকে রথ তৈরির কাজ থেকে সরে আসতে হবে। কারিগররা বিশেষ নিষ্ঠা সহকারে মনোযোগ দিয়ে রথ তৈরি করে থাকেন।
সোনার কুড়াল দিয়ে কাঠ কাটার নিয়ম : অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকেই জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার জন্য রথ তৈরির কাজ শুরু হয়। এর জন্য জঙ্গল থেকে কাঠ আনতে হয়। মন্দির কমিটির তরফে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে খবর পাঠানো হয়। এরপরেই মন্দিরের পুরোহিতরা জঙ্গলে গিয়ে সেই গাছের পুজো করেন।
সোনার কুঠারটি প্রথমে ভগবান জগন্নাথের মূর্তির পায়ে স্পর্শ করানো হয়।নির্দিষ্ট সেই গাছের গুঁড়ি সোনার কুড়াল দিয়ে কাটা হয়। তবে রথ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় নিম ও হাঁসি গাছের কাঠ।