নিজস্ব প্রতিনিধি, দিঘা: এই হনুমান কলা খাবি, জয় জগন্নাথ দেখতে যাবি?’
ছোটবেলায় এই দু লাইনের ছড়াটি বলেননি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। এতদিন জয় জগন্নাথ দেখতে যাওয়ার জন্য ছুটতে হত পুরীধামে। এবার যেন খানিক স্বস্তি। এখন থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে দিঘাতে আসছেন জগন্নাথ দেব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সৈকতনগরী দিঘায় জগন্নাথ দেবের মন্দিরের উদ্বোধন হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। মঙ্গলবার তাই চলছে মহাযজ্ঞ।
দিঘার জগন্নাথ দেবের মন্দিরটি তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ কলিঙ্গ শৈলীতে। ঠিক যেমন পুরীতে রয়েছে তেমনভাবেই তৈরি হয়েছে এই মন্দির। ৩০ এপ্রিল বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিন হবে মন্দিরের উদ্বোধন। তার জন্য সোমবার থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরে। মঙ্গলবার দুপুরের যজ্ঞে পূর্ণাহুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। যজ্ঞের সময় মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসেছেন ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পূর্ণাহুতির পরে পুরোহিতদের হাতে শরবতের গেলাস তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্ণাহুতি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সমস্ত ধর্ম-বর্ণের মানুষ এসেছেন এখানে। প্রত্যেকেই আমাদের অতিথি। ধর্ম কখনও মুখে প্রচার করে হয় না। ধর্মে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার জিনিস। মা-মাটি-মানুষ ভাল থাকলে আমি ভাল থাকব। তাই সকলের হয়ে প্রার্থনা করছি।’’ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, বুধবার বেলা আড়াইটে থেকে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ৩টের সময় হবে দ্বার উদঘাটন। এরপর মিনিট পাঁচেকের জন্য খুলে যাবে মন্দিরের দরজা। শেষে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা নেত্রী, সাংসদ, বিধায়করা। ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুরে পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। টলিউড ও সঙ্গীতজগতের সব বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা, নচিকেতা, অরিন্দম শীল, দেবলীনা কুমার সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব। এই প্রসঙ্গে নিজেই জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন ‘‘বুধবার অনুষ্ঠান রয়েছে। সে জন্য অদিতি এসেছে। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এসেছেন। দেব, রচনা, দেবলীনা, সকলেই এসেছে।’’
২০১৮ সালে পূর্ব মেদিনীপুর সফরে গিয়ে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর করোনাকালে মন্দির নির্মাণ বন্ধ ছিল। পরে তা শুরু হয়। রাজস্থান থেকে অন্তত ৮০০ কারিগর আনা হয়েছিল। মূল মন্দিরে সিংহাসনে থাকবে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার মূর্তি। এছাড়া থাকছে ভোগমণ্ডপ, নাটমন্দির, জগমোহন এবং গর্ভগৃহ। নাটমন্দিরটি দাঁড়িয়ে রয়েছে ১৬টি স্তম্ভের উপরে।