নিজস্ব প্রতিনিধি : পুরীর রথযাত্রার মতোই বাংলার রথযাত্রাও কিছু কম যায় না।হুগলিতে বিখ্যাত উৎসব হল মাহেশ রথযাত্রা। আগামী ৭ই জুলাই বাংলায় পালিত হবে মাহেশ রথযাত্রা। কলকাতা ও মায়াপুরে ইসকনের রথযাত্রার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। এইসময় বাংলার প্রতিটি রাস্তায় ও এলাকায় শিশুদের তিনতলার রথ বের করতে দেখা যায়। হুগলি জেলার মহেশ জগন্নাথের রথযাত্রা কিন্তু বেশ পুরনো। প্রায় ৬২৮ বছরের পুরনো এই মাহেশ রথযাত্রা। এইদিন রথযাত্রায় অংশ নেন প্রচুর সংখ্যক ভক্তরা।
এই দিন মহেশ মন্দিরে জগন্নাথ দেব রাজার মতো সাজে। সেই রুপে মুগ্ধ হন ভক্তরা।ভগবান জগন্নাথকে রাজকীয় পোশাক পরানো হয় এবং আড়ম্বরপূর্ণভাবে পুজো করা হয়। এই মাহেশ রথযাত্রার পেছনে প্রচলিত রয়েছে নানা কাহিনী।
নিম কাঠ দিয়ে মহাপ্রভুর নির্মানের ইতিহাস : একটি কাহিনী অনুসারে, পুরীতে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার দিন মাহেশের মন্দিরের চূড়ায় বসে থাকে একটি নীলকন্ঠ পাখি। আজ থেকে ৫০০ বছর আগে সন্ন্যাসী ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরীতে গিয়েছিলেন জগন্নাথ দেবকে নিজে রেঁধে ভোগ খাওয়াবেন বলে। সেখানকার সেবকরা এতে রাজী ছিলেন না। তাই তিনি অভিমানে দুঃখে স্নান খাওয়া ত্যাগ করেন। কঠোর উপবাস শুরু করেন। ভক্তের এই দশা দেখে স্বপ্ন দেন জগন্নাথ দেব। জগন্নাথ দেব তাকে নির্দেশ দেন মাহেশে যেতে। সেখানে গিয়ে এক বৃষ্টি ভেজা রাতে সন্ন্যাসী ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী গঙ্গায় ভাসমান তিনটি নিম কাঠ পান। এই কাঠ দিয়েই তিনি জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার মূর্তি তৈরি করেন।
মাহেশের বিখ্যাত রথযাত্রা : হুগলির মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে রথ যাত্রার শুভ আরম্ভ হয় অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে চন্দন যাত্রার মাধ্যমে। কথিত আছে এই দিনেই নাকি জগন্নাথ দেব রাজা ইন্দ্রদ্যুম্মকে স্বপ্ন দিয়েছিলেন তার সারা গায়ে চন্দনের প্রলেপ দেওয়ার জন্য। সেই থেকেই প্রতি বছর এই দিনে পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির এর মতন হুগলির মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের জগন্নাথ বলরাম এবং সুভদ্রাকে কপালে চন্দনের পট্টি পড়ানো হয়।
চন্দন যাত্রার কাহিনী : মূলত ৪২ দিন ধরে চলে চন্দনযাত্রা। এর মধ্য দিয়েই মাহেশে রথযাত্রার সূচনা হয়ে থাকে। কথিত আছে, জগন্নাথ দেব রাজা ইন্দ্রদ্যুম্মকে স্বপ্ন দিয়েছিলেন প্রচন্ড গরম থেকে বাঁচতে তাঁর সারা গায়ে চন্দনের প্রলেপ দেওয়ার জন্য। সেই থেকেই প্রতি বছর পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির এর মতন হুগলির মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের জগন্নাথ বলরাম এবং সুভদ্রাকে কপালে চন্দনের পট্টি পড়ানো হয়।
স্নানযাত্রার কাহিনী : চন্দনযাত্রার পর পালিত হয় স্নানযাত্রা। এর ঠিক ৪২ দিন বাদে রাজার কাছে আবার স্বপ্ন আসে যেখানে ঠাকুর বলেন চন্দনের জন্য তার মাথা ধরে গেছে তাই তাকে স্নান করাতে হবে। ১০৮ কলসি জল ঢেলে স্নান করানো হয় জগন্নাথ দেবকে।
জগন্নাথ দেবের অসুস্থতা : রাজা ১০৮ টি কলসির জল দিয়ে জগন্নাথ দেবকে স্নান করান। সেই থেকেই চন্দন যাত্রার ৪৫ দিন বাদে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা উৎসব পালন হয়। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন ঠাকুর। ১২ দিনের মধ্যে জগন্নাথ দেব সুস্থ হয়ে ওঠেন তারপর তাকে নিয়ে রথযাত্রা শুরু হয়।