নিজস্ব প্রতিনিধি : রাবণ যেমন ছিল মহাশক্তিধর তেমনই অন্যদিকে ছিল মহাদেবের পরম ভক্ত।রামায়ণ অনুযায়ী রাবণের লঙ্কা ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, রাবণকে লঙ্কাপতিও বলা হয়। তবে সোনার লঙ্কা রাবণের ঐতিহ্য নয়। সেটা তাঁর হাতে বানানো নয়।এই নিয়ে বহু মত রয়েছে। কেউ মনে করেন লঙ্কা শিবের তৈরি। আবার কেউ মনে করেন কুবেরের থেকে রাবন লঙ্কা রাজ্য পেয়েছিল। আপনি কী জানেন কার অভিশাপে লঙ্কা রাজ্য পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল।
শিব পুরাণ অনুযায়ী, শিবের খুব প্রিয় হলেন নন্দী। মহাদেবের কাছের পরম ভক্ত হল নন্দী।এই অবলা প্রাণীকে মহাদেব ভীষণ পছন্দ করে। সরল ও সোজা মনের নন্দী অল্পেই প্রচণ্ড রেগে যায়। রেগে গিয়ে কখনো কখনো সিংহের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমে পড়ে।
একবার রাবণ মহাদেবকে অনুরোধ করেন সোনার লঙ্কায় থাকার জন্য। কিন্তু মহাদেব রাবণের অনুরোধ ফিরিয়ে দেয়। তখন রাবণ কৈলাশে যান মহাদেবের সঙ্গে দেখা করতে। কৈলাসে পৌঁছোতেই ততক্ষণে ধ্যানে মগ্ন হয়ে পড়েছে শিব। এদিকে রাবণ কৈলাসে এমহাদেবের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্য নিয়ে মহাদেবের ধ্যান ভঙ্গ করতে চাইলে, তাতে বাধা দেন নন্দী। নন্দী জানান, মহাদবের ধ্যানভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। এতে রাবণ রেগে যান। তিনি নন্দীর পরিচয় জানতে চান।
নন্দীও সরল মনে জানায় তাঁর পরিচয়। তা শুনে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে যান রাবণ। নন্দীকে উপহাস করতে থাকেন যে কোন মানুষ নয় এমন প্রানীর সঙ্গে কথা বলবেন না তিনি। এমনকী তার কোন নির্দেশ ও মানবে না রাবণ। এতে নন্দী বুঝতে পারে রাবণের মধ্যে অহংবোধের জন্ম নিয়েছে।
পরে রাবণ অপমান করতে পিছু পা হন নি। নন্দী কীভাবে নিজেকে মহাদেবের শ্রেষ্ঠ ভক্ত বলে দাবি করেন তা জানতে চান রাবণ। রাবণ যুক্তি দেখান যে মানুষ না হয়ে মহাদেবের শ্রেষ্ঠ ভক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যায় না। তখন পাল্টা নন্দি জানায় যে, মহাদেবের ভক্ত হতে গেলে মানুষ হবার প্রয়োজন নেই।
একইসঙ্গে নন্দী আরও জানায়, শিব কখনও তাঁর ভক্তদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ করেন না। যে স্বর্ণলঙ্কা নিয়ে রাবণের এত গর্ব, সেই লঙ্কা একদিন পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। এই অভিশাপে রাবণ হা হা হা করে হেসে ওঠে। পরে হনুমান যখন তাঁর লেজের আগুনে সোনার লঙ্কা পুড়িয়ে দেন, তখন নন্দীর অভিশাপের কথা মনে করিয়ে দেয়।