নিজস্ব প্রতিনিধি : হাতে আর এক মাস। ইতিমধ্যেই পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজোর গন্ধে সারা পাড়া একাকার। এখন শুধু প্রহর গোনা বাকি। এরপরেই ত্রিশুল হাতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কৈলাস থেকে ধরাধামে পা রাখবে মহিষাসুরমর্দিনী। মহিষাসুরকে বধ করে দেবতাদের স্বর্গ উদ্ধার ও পাপ বিনাশ করেছিলেন দেবী পার্বতী। তবে আপনি জানেন কী দেবীর সঙ্গে সঙ্গে থাকে মহিষাসুর। দেবীর পদতলে স্থান মহিষাসুরের। দুর্গাপুজোতে দেবী দুর্গার সঙ্গে পুজো করা হয় তাঁর পদতলে থাকা আহত মহিষাসুরকেও। জানেন কী কেন ? তবে জেনে নিন এর নেপথ্যে কাহিনী।
পুরাণ মতে, ব্রহ্মার থেকে শক্তিশালি হওয়ার বর পেয়ছিল মহিষাসুর নামের এক অসুর। সে বর পেয়েছিল কোন পুরুষ, দেবতা, এমনকী কোন পশু তাঁকে বধ করতে পারবে না। এই বর পেয়ে অহংকারে গর্বে চারিদিকে নিজের আধিপত্য ছড়াতে লাগলেন তিনি। এমনকী দেবতাদের উপরেও অত্যাচার করতে শুরু করেন তিনি। স্বর্গলোক আক্রমণ করতে পিছু পা হয় নি মহিষাসুর। তাঁর অত্যাচারে নিরুপায় হয়ে স্বর্গ ছাড়েন দেবতারা। একে একে সকল দেবতা পরাজিত হয় মহিষাসুরের কাছে।
মহিষাসুরের কাছে পরাজিত হয়ে ব্রহ্মার কাছে আশ্রয় নেন দেবতারা। তাই বিষ্ণু,ব্রহ্মা ও সকল দেবতারা মিলে মহাদেবের স্মরণাপন্ন হন। দেবতাদের দুর্দশার কথা শুনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, ইন্দ্র এবং অন্যান্য দেবতাদের দেহ থেকে নির্গত হয় তেজ। সেই সমবেত তেজ থেকে আবির্ভূতা হলেন এক পরমা সুন্দরী নারী। শুধু রুপবতী নয় গুনবতীও বটে।
তাঁকে বিবিধ অস্ত্র দান করলেন দেবতারা।হিমালয় দেবীকে দিলেন তাঁর বাহন সিংহ। ব্রহ্মা দিলেন কমণ্ডলু।দেবরাজ ইন্দ্র দিলেন বজ্র। কুবেরের গদা, বিষ্ণুর চক্র আর মহাদেবের কাছ থেকে দেবী দুর্গা পেলেন পেলেন ত্রিশুল।দেবী হলেন দশভুজা, যিনি সর্ব শক্তির অধিকারী।দেবীর রণ হুঙ্কারে ত্রিলোক কাঁপতে লাগল। সঙ্গে যুক্ত হল তাঁর বাহনের সিংহনাদ। সে এক অপূর্ব রুপ ও তেজ।
দেবীর এই রুপ দেখে মোহিত হয়ে যান অসুর। দেবীকে বিবাহের প্রস্তাব দেন তখন দেবী তা নাকচ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হন মহিষাসুর। ঘোরতর যুদ্ধ শুরু হয় দেবী দশভুজা ও মহিষাসুরের সঙ্গে। এই যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন মহিষাসুর।
তবে একবার দুবার নয় তিন তিনবার মহিষাসুর জন্মগ্রহণ করেন। ত্রিবিধ রূপ ধারণ করে তিনবারই তাঁকে বিনাশ করেন এই দেবী। মহিষাসুরকে বধ করার জন্য প্রথমে অষ্টাদশভুজা উগ্রচণ্ডা রূপে, দ্বিতীয়বার ভদ্রকালী এবং তৃতীয়বার বধ করলেন দশভুজা দেবী দুর্গা রূপে।
কেন দেবীর সঙ্গে মহিষাসুর পুজিত হন : একদিন রাত্রিবেলা স্বপ্নে এক ভদ্রকালী মূর্তি দেখলেন মহিষাসুর। তাঁর তেজ দেখে মহিষাসুর তাঁর আরাধনা শুরু করলেন। আরাধনায় প্রীত ও প্রসন্ন দেবী তাঁকে বর চাইতে বললেন।
মহিষাসুর জানালেন, ‘আপনার হাতে মৃত্যুর জন্য কোনও দুঃখ বা ক্ষোভ আমার নেই, কিন্তু আপনার সঙ্গে আমিও যাতে সকলের পূজিত হই সেই আশীর্বাদ করুন। এছাড়া আর কিছুই চাই না আমি।’ দেবী ভদ্রকালী তখন আশীর্বাদ করে বললেন, ‘উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী আর দুর্গা, এই তিন মূর্তিতে আমার পদলগ্ন হয়ে তুমি সব সময়েই পূজ্য হবে দেবতা, মানুষ ও রাক্ষসদের।’
বলা হয়, মহিষাসুর আগে থেকেই জানতো দেবী দূর্গার সঙ্গে যুদ্ধে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত। তবুও সে যুদ্ধ করতে রাজি হয়েছিল কেননা সে দেবীকে বলেছিল যে, ‘আমি যোদ্ধা। যোদ্ধারুপেই মৃত্যুবরণ করতে চাই। বিনা যুদ্ধে মরতে পারবো না। এতে কলঙ্কিত হবে অসুর সমাজ ও একজন বীর যোদ্ধার পরিচয়।’ তাই যুদ্ধে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দেবীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন মহিষাসুর।