নিজস্ব প্রতিনিধি : পুজোর ক’টা দিন ভক্তরা আনন্দে কাটালেও বিজয়ার দিন প্রতিমা বিসর্জনের আগে মনটা কেঁদে ওঠে ভক্তদের। কেননা শিবপ্রিয়া উমাকে বিদায় জানাতে কষ্ট হয় সকলের। দশমীর পুজোর সঙ্গে তাই মিশে থাকে চোখের জল। তবুও শত কষ্ট বুকে নিয়ে মায়ের কানে কানে ফিসফিস করে বলে দেওয়া হয়, আবার এস মা তুমি….। তবে বিসর্জনের সময় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নীলকন্ঠ পাখি ওড়াতে। এখনও বিজয়া দশমীতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর প্রথা চালু আছে? জানেন কী এর পৌরানিক ব্যাখা ? কেনই বা ওড়ানো হয় নীলকন্ঠ পাখি। তবে জেনে নিন নীলকন্ঠ পাখির সঙ্গে উমার কী সম্পর্ক এবং এর পৌরানিক কাহিনী।
শিবের বন্ধু হল নীলকন্ঠ পাখি : নীলকণ্ঠ হল শিবেরই আরেক নাম। সমুদ্র মন্থনের পর যে বিষ উঠেছিল, তা সৃষ্টিকে রক্ষা করতে নিজের গলার কণ্ঠে ধারণ করেছিল শিব। কিন্তু সেই বিষের প্রভাবে তাঁর গলা নীলবর্ণ ধারণ করে। তাই তাঁর অপর নাম নীলকণ্ঠ। অন্যদিকে নীলকণ্ঠ পাখির গায়ের রং যেহেতু নীল, তাই হিন্দু ধর্মে এই পাখিকে শিবের সহযোগী বলে মনে করা হয়।
মহাদেবের কানে পার্বতীর আগমন বার্তা পৌঁছে দেওয়া : দশমীতে দুর্গা প্রতিমা ভাসানের আগে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর প্রথা চালু রয়েছে এর অন্যতম কারণ হল, পার্বতীর আগমন বার্তা নিয়ে নীলকণ্ঠ পাখি আগে কৈলাসে উড়ে গিয়ে মহাদেবকে খবর দেয়। তাই নীলকণ্ঠ পাখিকে মহাদেবের দূত বলা হয়ে থাকে।
রাবণ বধের আগে নীলকণ্ঠ পাখির দর্শন : রামায়ণ অনুসারে দশেরার দিন রাবণ বধের আগে নীলকণ্ঠ পাখির দর্শন পেয়েছিলেন রাম। এরপরই রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বেরিয়েছিলেন রাম। মনে করা হয়, তাই নীলকণ্ঠ পাখির দর্শনই রাবণকে যুদ্ধে হারাতে সাহায্য করেছিল। তাই দুর্গাপুজোর দশমীর দিন নীলকণ্ঠ পাখি দেখতে পাওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মের ধ্বজা উড়িয়ে অধর্ম নাশ করার ইঙ্গিত হল এই নীলকন্ঠী পাখি। তাই বিসর্জনের আগে নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানো হয়ে থাকে।