নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলা বাহিনীর অন্যতম সেনানি হিসাবে পাকিস্তানের সেনাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি। রাতের পর রাত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি তিনি। যে দেশ স্বাধীনের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন, সেই দেশেই (পড়ুই মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নব্য বাংলাদেশে) কবরের জন্য চার হাত জায়গা জুটল না ‘অগ্নিকন্যা’ মতিয়া চৌধুরীর। শেষ পর্যন্ত স্বামী তথা প্রথিতযশা সাংবাদিক বজলুর রহমানের কবরেই চির নিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটুকুও পেলেন না। আর এই ঘটনা জানাজানি হতেই অনেকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘এ কোন বাংলাদেশ?’
গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চির ঘুমের দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাংলাদেশের আম জনতার কাছে ‘অগ্নিকন্যা’ হিসাবে পরিচিত মতিয়া চৌধুরী। পূর্ব পাকিস্তানের লড়াকু ছাত্র নেত্রী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাক খান সেনার রাতের ঘুম হারাম করেছিলেন। গেরিলা বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে অত্যাচারী পাক সেনাদের ‘খতম’ করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দল আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন বামপন্থী ছাত্র নেত্রী। শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যদিও সাদামাঠা জীবনযাপনের জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘মতিয়া আপা’ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন।
মতিয়া চৌধুরীর জীবনাবসানের পরেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তার ভাই মাসুদুল ইসলাম চৌধুরী। সিটি করপোরেশনের তরফে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের জন্য জায়গা বরাদ্দ না করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। ওই কথা শুনেই মিরপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্বামী বজলুর রহমানের কবরেই বৃহস্পতিবার বিকালে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় অগ্নিকন্যার মরদেহ। শেখ হাসিনার জমানায় প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অফ অনারের মাধ্যমে চির বিদায় জানানো হত। এদিন মোল্লা ইউনূসের বাংলাদেশে সেই সম্মানটুকুও পাননি ‘অগ্নিকন্যা’ মতিয়া।