নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে গণহত্যাকারী পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে দহরম-মহরমে মেতে উঠেছে ‘রাজাকার’ মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। দেশ স্বাধীনের জন্য প্রাণ দেওয়া লক্ষ-লক্ষ বাঙালির রক্তের সঙ্গে গদ্দারি করে গণহত্যাকারীদের সঙ্গে গলাগলি শুরু করে দিয়েছে। এবার ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে গণহত্যাকারী পাক সেনার শরণাপন্ন হয়েছে। যদিও পাক সরকারের সাহায্য নিয়ে ইরানে থাকা সিংহভাগ বাংলাদেশি দেশে ফিরতে রাজি হননি। তারা ইরানে বাংলাদেশ দূতাবাসের আধিকারিকদের জানিয়ে দিয়েছেন, গণহত্যাকারীদের দয়ায় প্রাণ বাঁচানোর চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়। মাত্র ৯২ জন বাংলাদেশি পাকিস্তানের সাহায্য নিয়ে দেশে ফিরে আসতে রাজি হয়েছেন। তাদের ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানে তেল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত রয়েছেন কয়েকশো বাংলাদেশি। গত ১৩ জুন ইজরায়েল তেহরান-সহ ইরানের বিভিন্ন শহরে আক্রমণ শুরু করার পরেই বাংলাদেশিরা ইউনূস সরকারের কাছে দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানান। আর ওই আর্জির প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের স্থল সীমান্ত দিয়ে নিরাপদে ইসলামাবাদে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বাংলাদেশিদের নামের তালিকা চাওয়া হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানান, ৯২ জন বাংলাদেশিকে ইরান থেকে উদ্ধারের তালিকা পাকিস্তান সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রথম দফায় ২৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ধাপে-ধাপে বাকিদেরও ফেরানো হবে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বাংলাদেশিদের প্রথম দল স্থলপথে ইরান সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান সীমান্তে প্রবেশ করবেন। এরপর পাকিস্তানের করাচি বা নিকটবর্তী বিমানবন্দর দিয়ে দুবাই হয়ে ঢাকায় ফেরানো হবে। বাংলাদেশিদের ইরান থেকে পাকিস্তান হয়ে দেশে ফেরানোর বিষয়টির তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সেক্রেটারি ওয়ালিদ ইসলাম। ঈদের ছুটি কাটাতে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। তবে ছুটি বাতিল করে তেহরানে তাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।