নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলার গরমে মানুষের নাজেহাল অবস্থা। ভোরের দিকটা একটু সহ্য করা গেলেও বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রার পারদ চড়তেই থাকে। তাই এই সময় যারা রাস্তায় বেরান অফিসে বা কাজে তাঁদের সব সময় জল নিয়ে ঘুরতে হয়। আর যদি এই সময় ঠান্ডা খাবার না খান তাহলে দেখা দিতে পারে ঘন ঘন পেটের অসুখ। গরমে মূলত ডিহাইড্রেশানের সমস্যা বেশি দেখা যায়। এত গরমে রাস্তায় অনেকেই হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যায় পড়েন।
তাই পুষ্টিবিদরা এই সময় সহজে হজম করা যায় এমন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। তার সঙ্গে কিছু জলের পরিমাণ বেশি রয়েছে এরকম ফলও খেতে বলছেন।
তাই এরকম অবস্থায় সবার মাথায় শসার কথাই আগে আসে। এই ফল শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এই ফল স্যালাড থেকে ডিটক্স পানীয় সব জায়গায় দেখা যায়। তবে এর আরও যেই গুণগুলি রয়েছে তা আমরা আজ জেনেনি।
পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে
চিকিৎসকরা গরমে পেট ঠান্ডা রাখার জন্য শসা খাওয়ার কথা বলেন। এই ফলে জলের পরিমাণ থাকে প্রায় ৯৫-৯৬ শতাংশ। শসায় লো-ক্যালোরির পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে অনেক। এই ফল হজমেও সাহায্যও নিমেষে দূর করে দিতে পারে।
হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে
হাড় ভাল রাখতে শসার জুড়ি মেলা ভার। হাড়ের মজবুত করতে সকলে ভিটামিন ডি বা ভিটামিন বি১২ কথাই বেশি বলেন। কিন্তু এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে থাকে ভিটামিন কে যেটা অনেকেই জানেন না। এই দেহের ভিটামিন ক্যালশিয়াম শোষণে বড় ভূমিকা গ্রহণ করেন। রোজের পাতে শসা রাখলে অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকিও কমে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে
যাঁদের সুগার থাকে তাঁরা ভাবতে বসেন কোন ফল খাবেন। তাঁদের জন্য শসা খুবই ভাল একটি ফল। শসায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও পরিমাণে অনেক কম থাকে। সে ক্ষেত্রে শসা খেলে রক্তে শর্করা বাড়ে না।
দ্রুত ওজন কমাতে সহায়তা করে
শসা সহজপাচ্য বলে হজম তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। এক কাপ শসাকুচিতে ১৬ ক্যালোরি থাকে। আর এতে রয়েছে ফাইবার, যা মেদ ঝরাতে উপকার করে। আর এই ফল খেলে বেশ অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। তাই বার বার খিদেও পায় না।
প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
শসার আরও গুণের মধ্যে একটি হল প্রদাহ কম হওয়া। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর শসায় থাকে বিটা-ক্যারোটিন, ট্যানিন, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভনয়েড, যা শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
হার্ট ভাল রাখতেও সহায়তা করে
শসায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ফ্ল্যাভনয়েড ও লিগন্যান দেহে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। এর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও রাখতে পারে।
ত্বকের ভাল রাখে
শসা ত্বকের স্বাস্থ্যও ভাল রাখতে পারে। একটি সরবত রয়েছে সেটি বানিয়ে খেতে পারেন। কীভাবে বানাবেন দেখে নিন- একটি শসা টুকরো টুকরো করে কেটে নিন। সঙ্গে কুচিয়ে নিন অল্প কিছুটা ধনেপাতা। এ বার এই শসা ও ধনেপাতা একসঙ্গে মিশিয়ে ঘুরিয়ে নিন মিক্সিতে। তবে মিক্সিতে দেওয়ার সময়ে পরিমাণমতো জল দিতে ভুলবেন না। তৈরি হয়ে এলে তরলটি একটি গ্লাসে নিয়ে তাতে অল্প বিটনুন ছড়িয়ে খেতে পারেন। এই ভাবে শসা খেলে ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে।