আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে তুলসী গ্যাবার্ডকে বেছে নিলেন ট্রাম্প। তুলসিরই হাতের মুঠোয় এখন আমেরিকার ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থা। তিনিই এই সংস্থাগুলির কার্যক্রম তদারকি করবেন।
মার্কিন সিনেটে ৫২-৪৮ ভোটে তুলসী গ্যাবার্ডের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়। তুলসী গ্যাবার্ড দেশটির ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার কাজ দেখভাল করবেন। আবার তিনি গোয়েন্দা বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরামর্শও দেবেন। তুলসীর পক্ষে পড়া ৫২ ভোটের সব কটিই রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের।
বলা বাহূল্য, জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদটি সৃষ্টি হয় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ারে হামলার পর। মার্কিন কংগ্রেস এই পদ সৃষ্টি করে।মার্কিন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের পদ এটি। গত নভেম্বর মাসে নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে গ্যাবার্ডের নাম ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তাঁর এই ঘোষণা এবার বাস্তব রুপ পেল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নয়া অধিকর্তা তুলসী গ্যাবার্ডের হাত ধরে গোয়েন্দা জগতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন ট্রাম্প প্রশাসন।
উল্লেখ্য, বরাবরই হিন্দুদের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার হতে দেখা গেছে প্রাক্তন এই ডেমোক্র্যাটকে। এছাড়া অতীতে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন তিনি। এর আগে তুলসী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নৃশংসতার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন। গত বছরে বাংলাদেশে যে হিংস্রতা দেখা যায়। হাজার হাজার হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সময় বহু হিন্দু মন্দির, বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
তুলসী সেইসময় বলেন, ‘বাংলাদেশের মন্দিরে ভগবানের ভক্তদের বিরুদ্ধে এমন ঘৃণা ও হিংস্রতা দেখে আমার মন ভেঙে গেছে। জিহাদিদের এই বিশ্বাস, যে মন্দির ও মূর্তি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং নষ্ট করলে তাদের ঈশ্বর সন্তুষ্ট হবেন, আসলে দেখায় যে তারা ঈশ্বর থেকে কতটা দূরে। বাংলাদেশের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের কাছে সময় এসেছে যে তারা হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ঘৃণার জিহাদি শক্তির হাত থেকে রক্ষা করুক।’