নিজস্ব প্রতিনিধি, ওয়াশিংটন: এক সময়ে দুজনে ছিলেন ‘হরিহর আত্মা’। তবে বন্ধু ইলন মাস্কের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক গত কয়েকদিনে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। সৌজন্য ভুলে দুজনেই চোখা বাক্যবাণে একে অন্যকে বিঁধে চলেছেন। দুজনের সম্পর্ক যে খুব অদূর ভবিষ্যতে জোড়া লাগার নয় তা ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, মাস্ককে এতটাই শত্রু হিসাবে ধরে নিয়েছেন ট্রাম্প, যে গত বছর শখ করে কেনা টেসলার গাড়ি বেচে দিচ্ছেন। কেননা ওই গাড়ির সঙ্গে মাস্কের নাম জড়িয়ে। চলতি বছরে যখন টেসলার শেয়ারদর হু-হু করে নামছিল এবং ‘ধান্ধাবাজ’ ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত মাস্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হচ্ছিল, তখন দুঃসময়ের বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে টেসলার গাড়িও কিনেছিলেন। আর মাস্ককে নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে তা সমাজমাধ্যমেও পোস্ট করেছিলেন।
দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মাস্ককে নিজের বিশেষ পরামর্শদাতা হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর জন্য আলাদা একটি দফতরও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘জনকল্যাণমূলক’ বিলকে ‘জঘন্য পদক্ষেপ’ বলে চিহ্নিত করে প্রশাসনিক উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন টেসলা সিইও। ছেড়ে দেন খরচ কমানোর দফতরের দায়িত্বভারও। তার পর থেকেই দু’জনের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। গত কয়েক দিনে তা প্রকাশ্যেও চলে এসেছে। সুর চড়িয়ে টেসলা কর্তা মাস্ক দাবি করেছেন, তিনি সাহায্য না করলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততেই পারতেন না। পাল্টা মাস্কের সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্পও। এই অবস্থায় দু’জনের মধ্যে কথা বলিয়ে শৈত্য কাটানো যায় কি না, সেই চেষ্টা চলছিল বলে দাবি করেছিল একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
যদিও সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’-এর প্রতিনিধি সটান মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘মাস্কের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন কিনা?’ মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে ট্রাম্প বিদ্রুপের সঙ্গে বলেন ‘যে লোকটার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে? না, কথা বলার প্রয়োজন মনে করছি না। তাছাড়া অপচয় করার মতো সময় নেই আমার কাছে।’