নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি:ভারতের করা অপারেশন সিঁদুর অভিযানে ধ্বস্ত হয়েছে পাকিস্তান। তারপরেও তাদের লজ্জা নেই। এখনও পাকিস্তান ভারত বিরোধী স্লোগান দিয়ে চলেছে, ভারতকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পহেলগাঁও হামলার দায় নিয়েছিল টিআরএফ বা দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট। এই সংগঠনটি পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন। সেই সময় পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছিলেন পাকিস্তানে লস্কর-ই-তৈবা নামে কোনও সংগঠনের আর অস্তিত্ব নেই। এবার নিজের মিথ্যার জালে নিজেই ফেঁসেছেন জঙ্গিদেশের প্রধান। সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে একটি ভিডিও ও কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে লস্কর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নিতে দেখা গিয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রীসভার সদস্যদের।
গত ২৮ মে পঞ্জাবে ইয়ুম-ই-তাকবীর উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৯৯৮ সালে এই দিনে পাকিস্তান বালুচিস্তানের চাগাইতে সফলভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। সারা বিশ্বে তখন থেকেই জঙ্গিদেশ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসাবে পরিচিতি পায়। ইয়ুম-ই-তাকবীরে এসে একইসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেন লস্কর জঙ্গি ও পাকিস্তানের মন্ত্রীরা।
পাকিস্তানের খাদ্যমন্ত্রী মালিক রশিদ আহমেদ খান এবং পঞ্জাব (পাকিস্তানের) বিধানসভার স্পিকার মালিক মহম্মদ আহমেদ খানকে লস্কর-ই-তৈবার সন্ত্রাসী সইফুল্লাহ কাসুরি, হাফিজ সঈদের ছেলে (ভারত যাকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়েছে) তালহা সঈদ এবং আমির হামজার সঙ্গে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এই দুই মন্ত্রীই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
ইয়ুম-ই-তাকবীর নামেই পারমাণবিক শক্তি পরীক্ষার বর্ষপূরণের অনুষ্ঠান, আসলে এখানে মহিমান্বিত করা হচ্ছিল সন্ত্রাসবাদকে। সন্ত্রাসীদের থেকে নিজেদের দূরে রাখার পরিবর্তে শাহবাজের মন্ত্রীরা সন্ত্রাসীদের আলিঙ্গন করছিলেন, জঙ্গিবাদের প্রশংসা করছিলেন। মন্ত্রী মালিক রশিদ তো খোলাখুলি বলেই ফেললেন যে হাফিজ সাঈদ এবং সইফুল্লাহ কাসুরির মতো লোক পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় ছিল কাসুরির উপস্থিতি। পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিল সইফুল্লাহ কাসুরি। লস্করের এই কমান্ডার পাকিস্তানে বসেই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ২৪ মিনিটের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে কাসুরি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলে, “পহেলগাঁও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে আমাকে দোষারোপ করা হয়েছিল। এখন আমার নাম সারা বিশ্বে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।”
অনুষ্ঠানে কাসুরির উপস্থিতি গোয়েন্দাদের নিশ্চিত করেছে যে সইফুল্লাহ বাহাওয়ালপুরেই আশ্রয় নিয়েছে। আর তাকে আশ্রয় দিয়েছে আইএসআই। এই অনুষ্ঠান থেকেই লস্কর-ই-তৈবার সহ প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা খালিস্তানের সমর্থনে স্লোগান দেন।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়ে যে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস এবং সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হয় তাদের মধ্যে ছিল ইউসুফ আজহার, আবদুল মালিক রউফ এবং মুদাসসির আহমেদের মতো মোস্ট ওয়ান্টেডরা। এরা IC-814 বিমান ছিনতাই ও পুলওয়ামা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।