নিজস্ব প্রতিনিধি: খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ড ঘিরে ফের সন্মুখ সমরে ভারত ও কানাডা। ইতিমধ্যেই দিল্লি এবং অটোয়ার মধ্যে কূটনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে। দুই দেশই দূতদের বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের পথে হেঁটেছে। দিল্লি-অটোয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে গভীর দোস্তির কথা জানিয়েছেন কুখ্যাত খলিস্তানি জঙ্গি তথা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন শিখস ফর জাস্টিসের (এসএফজে) নেতা গুরপতবন্ত পান্নুন। বুধবার (১৬ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২-৩ বছর ধরে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে তাঁর।’ আর ওই দাবির সঙ্গে সঙ্গেই নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের হাতে এক বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছেন খলিস্তানিদের বর্তমান মসিহা। এদিন রাতে বিদেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কানাডা সরকার ভারত বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দিচ্ছে বলে যে অভিযোগ আমরা তুলেছিলাম, তা যে মিথ্যা নয়, তা প্রমাণিত হল।’
এদিন সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে গত ২-৩ বছর ধরে গভীর বন্দুত্বের কথা জানিয়েছেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন শিখস ফর জাস্টিস নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন। ভিডিও বার্তায় কুখ্যাত জঙ্গি নেতাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো গতকাল প্রকাশ্যে এই বিবৃতি দেওয়ার সময় কী বলেছিলেন…এটি ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি কানাডার অটল অঙ্গীকারের প্রমাণ। শিখস ফর জাস্টিস (এসএফজে) গত দুই থেকে তিন বছর ধরে এসএফজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলেছে। কানাডায় ভারতীয় দূতাবাসে ঘাঁপটি গেড়ে থাকা সমস্ত গুপ্তচর নেটওয়ার্কের বিশদ বিবরণ তুলে দেওয়া হয়েছে।’ কানাডার সরকার যে হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে মোদি সরকার তথা দিল্লির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থার পথে হাঁটবে তা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে পান্নুনকে। তার কথায়, ‘একজন ভারতীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করা ন্যায়বিচারের শেষ রাস্তা নয়। এই তো সবে শুরু।’ একই সঙ্গে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার এবং টরন্টোতে ভারতীয় দূতাবাস বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন গুরপতবন্ত পান্নুন।
BIG: India’s designated Khalistani Terrorist Gurpatwant Singh Pannun’s confession on Canadian National Broadcaster @CBCNews on direct links with Prime Minister Justin Trudeau since last three years, giving information against India on which Trudeau finally acted without evidence. pic.twitter.com/kIz4PZehDy
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) October 16, 2024
প্রসঙ্গত, খলিস্তানি জঙ্গিনেতা হরদীপ সিং নিজ্জরকে ২০২০ সালে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে ঘোষণা করেছিল ভারত। তিন বছর পর ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারের একটি গুরুদ্বারের সামনে তাঁকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পরেই নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের ‘ভূমিকা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। আর তার পর থেকেই দু’দেশের সম্পর্কে চিড় ধরে। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর অটোয়ায় নিযুক্ত এক ভারতীয় দূতকে বহিস্কার করেছিল জাস্টিন ট্রুডো সরকার। বদলা হিসেবে পরের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে কানাডা দূতাবাসের এক শীর্ষ কূটনীতিবিদকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি পাঁচ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নিজ্জর খুনে জড়িত সন্দেহে কয়েক জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতকেও গ্রেফতার করে কানাডা পুলিশের ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিম (আইএইচআইটি)। গত রবিবার (১৩ অক্টোবর) কানাডা সরকারের তদন্তকারী সংস্থা নিজ্জর হত্যা মামলায় ভারতীয় হাই কমিশনার সঞ্জয়কুমার বর্মাকে ‘স্বার্থ সম্পর্কিত ব্যক্তি’ বলে জানায়। তার পরেই কানাডা সরকারের তরফে বলা হয়, নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে যাঁদের স্বার্থ জড়িত, সেই তালিকায় ভারতীয় হাই কমিশনারও রয়েছেন। যদিও কূটনৈতিক রক্ষাকবচ থাকায় সঞ্জয়কুমার বর্মার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কানাডার তদন্তকারী সংস্থার ওই দাবিকে নস্যাৎ করে এদিন বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কানাডা সরকার নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ পেশ করেনি। ট্রুডোর অভিযোগকে, ‘রাজনৈতিক লাভের জন্য ভারতকে অপমান করার একটি ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার বলেও জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে দিল্লিতে অবস্থিত কানাডা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছিলেন বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। কানাডায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার সঞ্জয়কুমার ভার্মাকে অকারণে অপদস্থ করা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কানাডার দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশের ঘন্টা খানেকের মধ্যেই কানাডার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সঞ্জয় ভার্মাকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন সাউথ ব্লকের কর্তারা।