আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সঙ্ঘাত চলছিল। আর সেই সঙ্ঘাতের জেরে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) আচমকাই ইস্তফা দিলেন কানাডার উপপ্রধানমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। আর ইস্তফা দেওয়ার পরেই ট্রুডোকে এক হাত নিয়ে পদত্যাগী উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী সরকার চালাতে গিয়ে গোঁয়ার্তুমি চালাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে এক মিনিটও কাজ করার পরিবেশ নেই।’ যদিও উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের ইস্তফা নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
আন্তর্জাতিক একাধিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরেই সরকারি নীতি প্রণয়ন নিয়ে ফ্রিল্যান্ডের সঙ্গে ট্রুডোর মতের অমিল হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অবাস্তব যুক্তি মানতে রাজি হচ্ছিলেন না অর্থ দফতরের দায়িত্বে থাকা ফ্রিল্যান্ড। কর পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন খাতে সরকারি খরচ নিয়ে দু’জনের মধ্যে সঙ্ঘাত তুঙ্গে ওঠে। আগামী বছর কানাডায় ভোট রয়েছে। ওই ভোটে ফের ক্ষমতা দখল করতে সরকারি কর কাঠামোয় ছাড় দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করার পরিকল্পনা ছিল ট্রুডোর। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় সায় দেননি ফ্রিল্যান্ড। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিকবার বৈঠক করেন দুজনে। তবে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় ওই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।
এদিনই কানাড্ডার সংসদে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মন্দা নিয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করার কথা ছিল ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের। কিন্তু তার কয়েক ঘন্টা আগে আচমকাই তিনি ইস্তফা দেন। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডলে (পূর্বতন টুইটার) পদত্যাগপত্র পোস্ট করে কানাডার পদত্যাগী উপপ্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘কানাডাকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা যে বৈঠক করেছি, তা ব্যর্থ হয়েছে। উল্টে মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে।’