আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রথমবার টেলিভিশন বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন ট্রাম্প ও কমলা। বিতর্কে উঠে আসে উন্নয়ন, দেশ বিদেশ, মূল্যস্ফীতি, গর্ভপাত আইন ও অভিবাসন নীতি। বিতর্কের শুরুতে হাত মেলান করেন ট্রাম্প ও হ্যারিস। এই বিতর্কের অন্যতম বিষয় অর্থনীতি দিয়েই বক্তব্য শুরু করেন কমলা। এরপরেই ট্রাম্পই ও তাঁর বক্তব্য রাখেন।
বিতর্কের একপর্যায়ে রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত প্রসঙ্গে করা প্রশ্নের জবাবে কমলা হ্যারিস জানান, তাঁর ( কমলার) সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জোরালো সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি এখন আর প্রেসিডেন্ট নেই—এতে আমাদের ন্যাটো (পশ্চিমা সামরিক জোট) মিত্ররা খুবই কৃতজ্ঞ।’ একইসঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ‘পুতিন একজন স্বৈরশাসক। তিনি সহজেই আপনাকে (ট্রাম্প) কবজা করে ফেলবেন।’
অন্যদিকে এই নিয়ে ট্রাম্প জানান, ‘আমি চাই এই যুদ্ধ( রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ) বন্ধ হোক।’ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন—উভয়কেই খুব ভালো করে চেনেন।
পাশাপাশি উঠে আসে গাজা ইজরায়েল চলমান সংঘাতের কথা। ট্রাম্প বলেন, ‘কমলা জিতলে ২ বছরের মধ্যে ইজরায়েলের অস্তিত্ব থাকবে না। কমলা হ্যারিস ইজরায়েলকে ঘৃণা করেন। একই সময়ে তিনি নিজের মতো করে আরব জনগণকেও ঘৃণা করেন।’এই সময় ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধ শেষ করবেন এবং হামাসের হাতে বন্দি থাকা বেসামরিক মানুষদের ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হবেন ? জবাবে তিনি জানান, ‘তিনি ( ট্রাম্প ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকলে এ যুদ্ধই হত না।’
হামাস–ইজরায়েল ইস্যুতে পাল্টা কমলা তাঁর আগের কিছু মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইজরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তবে এটি কীভাবে করছে তা গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধের অবসান হওয়া উচিত। এটা অবিলম্বে শেষ হওয়া উচিত।’ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে কমলা বলেন, ‘গাজা পুনর্গঠনের জন্য দুই রাষ্ট্রই সমাধান।’
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে একজন ‘অস্তিত্বহীন’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রথম মুখোমুখি টেলিভিশন বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের এই বক্তব্য পাল্টা আক্রমণে উড়িয়ে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস।বিতর্কে বাইডেনকে উদ্দেশ করে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা বলেন, ‘নির্বাচনে আপনি বাইডেনের বিরুদ্ধে লড়ছেন না, আপনি লড়ছেন আমার বিরুদ্ধে।’