আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে চিন এবং আমেরিকা দুইয়েরই যে সখ্য রয়েছে তা তো কারও অজানা নয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে গিয়ে খানা পিনা সেরেছেন। ফলে আমেরিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তান। কিছুদিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন তাঁর মধ্যস্থতাতেই ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ করেছে।
পাশাপাশি রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধে তিনি বারবার রাশিয়াকে অনুরোধ করছেন যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যে চলা ইরান ইজরায়েল সঙ্ঘাতে ইরানকে তিনি যুদ্ধ বন্ধ করার ‘হুমকি’ দিচ্ছেন। এই যুদ্ধ নয় শান্তি চাই নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে ওঠার জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের সুপারিশ করেছেন। এই তথ্য প্রদান করেছেন হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি।
মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ পারমাণবিক দিকে যেতে পারত বলে করেছিলেন ট্রাম্প। সেই যুদ্ধ তাঁর কথাতেই বন্ধ হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন। সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে মুনির তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন চেয়েছেন। মুনির মনে করেন ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক উত্তেজনা প্রশমিট করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা বিশ্বশান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
সদ্য হোয়াইট হাউজে মধ্যাহ্নভোজন সেরেছেন আসিম মুনির। এর আগে কখনও কোনও মার্কিন রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানের কোনও ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে আতিথ্য দেননি। ট্রাম্প বলেছেন পাকিস্তান তাঁর কথা শুনে আর যুদ্ধ করেনি, তাই তিনি সেদেশকে ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলেন। দেশের প্রতীভূ হয়ে গিয়েছিলেন আসিম মুনীর।
পাকিস্তানকে ‘ভালবাসি’ বলে আবার ভারতের প্রশংসাও করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুনগান করে মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন, “মোদি একজন অসাধারণ মানুষ। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা মোদির সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছি। কিন্তু আমি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়েছি।”
নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত চারটি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য দেওয়া হয়। সেগুলি হল, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ, শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষা এবং একটি সুসংগঠিত ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের জন্য কাজ করা।