নিজস্ব প্রতিনিধি, ওয়াশিংটন: তাঁর শুল্ক বোমায় রক্তাক্ত বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজার। লক্ষ-লক্ষ কোটি টাকা হারিয়ে সর্বসান্ত হয়েছেন লগ্নিকারীরা। কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় কর্মহীন হতে চলেছেন কোটি-কোটি মানুষ। আর্থিক মন্দার ভ্রুকুটি গোটা বিশ্বজুড়ে। তবুও নিজের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চচিও না সরার বিষয়ে অনড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৭ এপ্রিল) তিনি দাবি করেছেন, ‘কোনও মুদ্রাস্ফীতির ঘটনা ঘটেনি। উল্টোদিকে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।’ শুধু তাই নয়, মার্কিন মুলুকে সুদের হারও কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর তাতেই নতুন করে সিঁদূরে মেঘ দেখছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।
গত ২ এপ্রিল চচিন-ভারত-কানাডা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপরে পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুধুমাত্র বাদ পড়েছিল রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার মতো আমেরিকার ঘোষিত শত্রু দেশগুলো। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরেই তোলপাড় পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। ধস নেমেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। পাল্টা বদলা নিতে মার্কিন পণ্যের উপরে কর আরোপের ঘোষণা করেছে কানাডা-সহ একাধিক দেশ। এই লড়াইয়ে পড়ে নাভিঃশ্বাস উঠেছে সাধারণ লগ্নিকারী থেকে শুরু করে আমজনতার। ‘উন্মাদ’ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন মার্কিন নাগরিকরা। একাধিক দেশও চিঠি লিখে কর স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু কোনও কিছুই অনড় অবস্থান থেকে নড়াতে পারেনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।
এদিন সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তেলের দাম কমেছে, সুদের হার কমেছে (ধীর গতিতে এগিয়ে আসা ফেডারেলের উচিত সুদের হার কমানো!), খাদ্যের দাম কমেছে, মুদ্রাস্ফীতি নেই, এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সপ্তাহে কর অপব্যবহারকারী দেশগুলি থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আমদানি করছে।’ চিনকে বিঁধে তিনি লিখেছছেন, ‘এতদিন ধরে মার্কিন পণ্যের উপরে উচচ্চহারে কর নেওয়া চিনের বাজার ধসে পড়ছে। গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভালমানুষির সুযোগ নিয়ে যথেষ্ট ক্ষতি করেছে! আর এর জন্য দায়ী আমাদের দেশের অতীতের “নেতারা”। আমি স্পষ্ট বলতে চাইছি, আমেরিকাকে আবারও মহান করব।’