আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মৃত্যু সতত শোকের। খ্রিস্টধর্মে মৃত মানুষকে নিয়ে যাওয়া হয় কফিনে। চারজনের কাঁধে থাকে সে কফিন। ব্রিটেনেও এমনই একজন কফিনে চড়ে শেষ যাত্রায় গিয়েছিলেন। তাঁর শেষযাত্রায় অধিকাংশজনই শোকগ্রস্তর পাশাপাশি হয়ে গিয়েছিলেন অবাক। কারণ কফিনটি ঠিক সাধারণ আকারের ছিল না। তাহলে কেমন ছিল? কী দেখে শেষ যাত্রায় অংশগ্রহণকারী মানুষেরা এত অবাক হয়েছিলেন?
আসলে যে ব্রিটিশ মানুশটি চিরকালের জন্য পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পরিমাণে চকলেট, ক্যান্ডির অনুরাগী। জীবিত অবস্থায় প্রায়ই মজা করে তাঁকে বলতে শোনা যেত মৃত্যুর পর তাঁকে যেন চকলেটের মতো দেখতে কফিনে সমাহিত করা হয়। সেই ইচ্ছারই মর্যাদা দিতে পরিবারের সদস্যরা ওই ব্রিটিশ মানুষটির কফিন চকলেটের আকারের বানিয়েছিলেন।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, মৃত ব্যক্তির নাম পল ব্রুম। তিনি একটি বৃদ্ধাশ্রমে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দেখভাল করার কাজ করতেন। ব্রুম ছিলেন অত্যন্ত হাসিখুশি একজন মানুষ। তিনি সর্বদা মানুষকে হাসাতে ভালবাসতেন। আর খুব ভালবাসতেন ক্যান্ডি, চকলেট এবং টফি। ব্রুম নিজে যেমন এগুলি খেতেন, তেমন অন্যদেরও খাওয়াতেন।
এমন মানুষের ভাবনা চিন্তা কী আর অন্যান্যদের চিন্তাধারার মতো সরলরেখায় যেতে পারে! পল প্রায়ই বৃদ্ধাশ্রমে, পরিবারে, বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে বলতেন মৃত্যুর পরেও তিনি নিজের সঙ্গে অদ্ভুত কিছু ঘটাতে চান। তিনি নিজেই পরিবারকে বলেছিলেন যে মৃত্যুর পর ব্রুমকে যেন চকলেটের বাক্সের মতো আকৃতির একটি কফিনে সমাহিত করা হয়। কিন্তু পরিবার ভেবেছিল এ তো রসিকতা। তাই ব্রুমকে প্রথমে তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সমাহিত করা হয়নি।
পলের মৃত্যুর পর যখন তাঁর উইল খোলা হয়, তখন দেখা যায় সেখানেও তিনি শেষ ইচ্ছা হিসাবে চকলেট আকৃতির কফিনে সমাহিত হওয়ার কথাই লিখেছেন। তখন তাঁর পরিবার এই শেষ ইচ্ছাপূরণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং নতুন করে চকলেট বারের মতো দেখতে কফিনে সমাহিত করে। ব্রিটিশ ব্যক্তির অদ্ভুত রসবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কফিনের একদিকে লিখে দেওয়া হয় ‘আমি পাগল!’ পলের পরিবার জানিয়েছে যে শেষকৃত্যের সময় তাঁর বন্ধুরা পল যা মজার মজার কথা বলতেন সেগুলি লিখিত টিশার্ট পরে হাততালি দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।