আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফের আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা চালাল পাক সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার (২৭ অগস্ট) গভীর রাতে আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার এবং খোস্ত প্রদেশে ওই হামলা চালানো হয়। হামলায় তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছেন। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও সাতজন। ওই ঘটনায় বেজায় চটেছে তালিবান সরকার। বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে নিযুক্ত পাক রাষ্ট্রদূত উবাইদ-উর-রেহমান নিজামনিকে তলব করে হাতে প্রতিবাদপত্র ধরিয়ে দিয়েছে আফগান বিদেশ মন্ত্রক। যদিও আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা চালানো নিয়ে পাকিস্তান সেনা কিংবা বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম ‘আরব নিউজ’ এর প্রতিবেদন অনুসারে, গতকাল বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তবর্তী খোস্তের স্পেরা জেলায় হাজী নাঈম খানের বাড়িতে আছড়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনার ড্রোন। ওই হামলায় তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। পাশাপাশি আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তবর্তী নাঙ্গারহারের শিনওয়ার জেলায় শাহসাওয়ার নামে একজনের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানি ড্রোন। তার চার ছেলে এবং দুই স্ত্রী আহত হয়েছেন।
মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হলেও গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। ইসলামাবাদের তরফে বার বার অভিযোগ করা হয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে আফগানিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে সংগঠনের সদস্যরা নাশকতা মূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।। যদিও কাবুল সন্ত্রাসীদের ‘নিরাপদ আশ্রয়’ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। গত বছরই সন্ত্রাসীদের ডেরা ধ্বংসের নামে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায় পাক সেনা। ওই বিমান হামলায় ৪৬ জন আফগান নাগরিক প্রাণ হারান। যদিও ইসলামাবাদ যেমন ওই হামলার কথা স্বীকার করেনি তেমনই অস্বীকারও করেনি। গত সপ্তাহেই পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসাক দার কাবুলে চিন ও আফগান বিদেশ মন্ত্রীদের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। ওই বৈঠকের এক সপ্তাহের মধ্যেই আফগানিস্তানে হামলা চালাল পাক সেনা।