নিজস্ব প্রতিনিধি: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে উত্তপ্ত গোটা দেশ। হিন্দুদের বেছে বেছে গুলি করা হয়েছিল কাশ্মীরের বৈসরণি উপত্যকায়। এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে আকাশসীমা। এই পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সামরিক আগ্রাসনের সম্ভাবনা কিছুটা রয়েছে। এই পরিবেশের মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনীরা সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বুধবার পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। যেখানে পাকিস্তানি সেনারা ভারতের উদ্দ্যেশে বলেছে, “আমরা প্রস্তুত, আমাদের পরীক্ষা নিও না।”
সংবাদমাধ্যমটির মাধ্যমে আরও জানা গিয়েছে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী পাকিস্তানিদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, তাঁদের প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত রয়েছে। যে কোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তাঁরা সক্ষম। পাশাপাশি ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন তাঁদের ধৈর্য পরিক্ষা না করতে।
লেফটেন্যান্ট ভারতের উদ্দ্যেশে বলেন, “আমরা আগ্রাসন শুরু করতে যাচ্ছি না। আমরা অত্যন্ত দায়িত্বশীল একটি রাষ্ট্র এবং আমরা সর্বদা যুক্তি এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততার পথ অনুসরণ করব। কিন্তু যদি তারা মনে করে যে— আগ্রাসনই এগিয়ে যাওয়ার পথ, তাহলে আমাদের বার্তা কেবল এটাই: আমরা প্রস্তুত — আমাদের পরীক্ষা নিও না।”
আহমেদ শরীফের কথায়, “সশস্ত্র বাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী—সবাই সর্বাত্মক প্রস্তুতিতে রয়েছে। আমরা সব জায়গায়, সবসময় সক্রিয় রয়েছি। যেকোনও হুমকি মোকাবেলার জন্য আমরা তৈরি হয়ে রয়েছি।”
তিনি ভারতকে নিশানা করে বলেন, যদি কোনও সংঘাত শুরু হয় তা করবে ভারত, তবে তা কোথায় থামবে তা ঠিক করবে পাকিস্তান।
চৌধুরী আরও জানায়, কোনও প্রতিশোধমূলক বিষয় ঘটলে তার জন্য সমস্ত পাক সেনাবাহিনী তৈরি। জানা গিয়েছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমস্ত জাতি একতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিও এই ইস্যুতে প্রয়োজনীয় বিবৃতি দেয়।
জেনারেল আহমেদ আরও জানিয়েছেন, “দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভারতীয় আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে দৃঢ়সংকল্প। সেনাবাহিনী সব ফ্রন্টে প্রস্তুত রয়েছে—যে কোনও ধরনের হুমকির মোকাবিলা করতে পিছু পা হবে না কেউই।”