আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলি হামলা অব্যাহত। ইজরায়েলের চালানো হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১২০ জন নতুন করে এই হানায় মারা গিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে ইজরায়েলি হামলায় ১২০ জন নিহত হয়েছেন। এই নিরীহ মানুষগুলির মৃত্যু কারণ ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিচালনা ও বিমান হামলা। জানা গিয়েছে, যারা নিহত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে অনেকে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর বুধবার থেকে এখনও পর্যন্ত একাধিক ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এই হামলায় ৫৭ জন নিহত এবং ৩৬৩ জন আহত হয়েছেন। যদিও এসব ত্রাণ কেন্দ্র পরিচালনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সমর্থিত মানবিক সংস্থা ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)।
জানা গিয়েছে যে, বিতরণকেন্দ্রগুলিতে হামলা হয়েছে সেগুলি ইজরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত। খিদের কাছে মৃত্যুভয়ও বোধহয় তুচ্ছ। তাই গাজার মানুষও প্রাণভয় দূরে সরিয়ে এই সব কেন্দ্রগুলি থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করছেন। ফলে ইজরায়েলি গোলাগুলির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। গত ২৭ মে থেকে জিএইচএফ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তারপর থেকে অন্তত বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে দু’শোরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইজরায়েল সুপরিকল্পিতভাবে গাজায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে মানুষ। ত্রাণের আশায় বসে আছেন যারা তাঁরা যখনই ত্রাণ সংগ্রহে আসছেন তখনই তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে। এ আসলে এক হত্যা কৌশল।’ গাজার বাসিন্দাদের কাছে আমেরিকা-ইজরায়েল সমর্থিত ত্রানকেন্দ্র গুলি হয়ে উঠেছে মানবিক কষাইখানা।
ইজরায়েলের নৃশংসতার কড়া নিন্দা করেছে জাতিসংঘ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে জিএইচএফ-এর মাধ্যমে পরিচালিত কোনও ত্রাণ কার্যক্রমে জাতিসংঘ অংশ নেবে না।