নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: ভারত-পাক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ অদ্ভুতভাবে পাকিস্তানের পাশে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারত না থাকলে পূর্ব পাকিস্তানের যে আর বাংলাদেশ হত না তা ভুলে গিয়েছে তারা। ইতিহাস বিস্মৃত হয়ে বাংলাদেশ এখন নির্লজ্জ বন্ধুর (তৎকালীন শত্রু) হাত ধরেছে। এর মধ্যে গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে চাঞ্চল্যকর খবর।
ভারতের বিরুদ্ধাচরণ করা পাকিস্তানের বরাবরের স্বভাব। এর জন্য পাকিস্তান যে কোনওরকমের কষ্ট করতে বা নির্লজ্জতার সীমা অতিক্রম করতেও রাজি। যারা পহেলগাঁওয়ে হামলা চালিয়েছিল সেই সন্ত্রাসীরা ২২ ঘণ্টা ট্রেক করে তবে কাশ্মীর পৌঁছেছিল। ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগের কাছে খবর রয়েছে যে এদেশে হামলা চালানোর জন্য পাক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা বাংলাদেশে মজুত করেছে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক। এই দেশের মধ্য দিয়েই সীমান্তে পেরিয়ে ভারতে আসছে অস্ত্র।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশে সক্রিয় লস্কর জঙ্গিরাও তাদের আত্মঘাতী বাহিনী পাঠানোর ছক কষছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে এই তথ্য এসেছে। তারপর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমান্তে একইসঙ্গে নজরদারি এবং নিরাপত্তা জোরদাড় করা হয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দারা সক্রিয় লস্কর জঙ্গি ও তাদের মেন্টরদের নাম জানার চেষ্টা করছেন।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে পেরে উঠবে না পাকিস্তান, তা তারা জানে। তাই বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে তারা। আর এতে লস্করকে সরাসরি মদত দিচ্ছে আইএসআই।
ভারতের অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হয়েছে লস্করের সদর দফতর মুরিদকে। আপাতত নেতারা এক জায়গায় নেই। যোগাযোগের জন্য তারা ব্যবহার করছে নিজেদের তৈরি এনক্রিপ্টেড অ্যাপ। তাদের কথোপকথনের জন্য ব্যবহৃত কিছু অ্যাপ উদ্ধার করতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। সেখান থেকে বালাদেশকে ব্যবহারের তথ্য মিলেছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় চলা সন্ত্রাসী শিবিরের সঙ্গে জোর দিয়েছে আনসারুল্লা বাংলা টিম, হাট, জেএমবি সহ সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলি। তাদের মেসেজ ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগের কাছে এসেছে। পাকিস্তান থেকে লস্করের শীর্ষ নেতৃত্বর কাছ থেকে নির্দেশ পায় বাংলাদেশের নানা জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। তাদের নির্দেশেই হয় আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড়। তৈরি হয় আইইডি।
বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলি অস্ত্রশস্ত্র মজুত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের লস্করের শাখাগুলি বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল পাঠাতে চাইছে ভারতে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গুলি করে মানুষ খুনই লস্করের আসল লক্ষ্য। তাছাড়া ২৬/১১ বা পুলওয়ামার মতো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ‘মাস অ্যাটাক’ করতে চাইছে তারা। আর সেই জন্যই একসঙ্গে বিস্ফোরণের ছক কষা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। পাশপাশি লস্করীরা এটাই বোঝাতে চাইছে অপারেশন সিঁদুর তাদের কিছুই করতে পারেনি।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল ভারতে নিয়ে আসার জন্য বাছা হয়েছে বাংলাদেশের লস্করের স্লিপার সেলের সদস্যদের। এই তথ্য পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে সরকার। দেশের কোথায় কোথায় স্লিপার সেল রয়েছে তা খতিয়ে দেখে গোটা পরিকল্পনা বানচাল করতে চাইছেন গোয়েন্দারা।