আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ইসলামাবাদ: ‘আমি শপথ করছি যদি ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান আক্রমণ করে, তাহলে আমরা তাদের (অর্থাৎ ভারতকে) সমর্থন করব।” এই একটু বাক্য নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা পাকিস্তানকে। এই বাক্য আর অন্য কারও নয়, পাকিস্তানের মৌলানা নিজেই মসজিদ থেকে এই কথা বলছেন। খাইবার পাখতুন অঞ্চলের একটি মসজিদের মৌলানা মহম্মদ রঙ্গিলা পাকিস্তান সরকার এবং সেনাবাহিনীর উপর নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই বক্তব্যের মাধ্যমে।
খাইবার পাখতুন অঞ্চলের একটি মসজিদের মৌলানা মহম্মদ রঙ্গিলা ঘোষণা করেছেন যে ভারত আক্রমণ করলে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়ানোর শপথ নিয়েছেন। খাইবার পাখতুন হল সেই একই এলাকা যেখানে তেহরিক-ই-তালেবানের প্রভাব রয়েছে। একটা সময় ছিল যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এখানে মানুষকে থাকতে দিত না। এই কারণেই এখন এখানকার মানুষেরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সমর্থন করার কথা বলছে।
বেলুচিস্তানের মতো এখানে মানুষ একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল প্রায়। কিন্তু এখন তাঁরাই কণ্ঠ ছেড়েছেন। স্পষ্টভাবে বলছেন, জিন্নাহ’র পাকিস্তান এখন ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে। যখন ভেতর থেকে বিদ্রোহের স্লোগান প্রতিধ্বনিত হতে শুরু করে, তখন বাইরে থেকে শত্রুর কী দরকার?
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের বিখ্যাত লাল মসজিদ থেকে এমনই কিছু বলা হয়েছে। এতে অবাক হয়ে গিয়েছে পাকিস্তান সরকার, সেনাবাহিনী এবং সেখানে লালিত-পালিত সন্ত্রাসীরা। ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত এই লাল মসজিদটি অত্যন্ত বিখ্যাত। এই মসজিদের ইমামের পাকিস্তানের জনগণের উপর গভীর প্রভাব রয়েছে। এই লাল মসজিদের বর্তমান ইমামের নাম মৌলানা আবদুল আজিজ গাজি। তিনি এক বড়সড় বক্তব্য রেখেছেন। তিনি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে সরকার এবং সেনাবাহিনীকে সমর্থন করতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃত হন। তাঁর এক বক্তৃতায় তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তুলে বলেন যে, ভারতের চেয়ে পাকিস্তানে বেশি নিপীড়ন চলছে। ভারতের তুলনায় পাকিস্তানে মুসলমানদের উপর অনেক বেশি নির্যাতন চলছে।
মৌলানা গাজি পাকিস্তানের জনগণের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন যে, পাকিস্তানের এই যুদ্ধ ইসলাম রক্ষার জন্য নয়। বরং, এটি কেবল জাতীয়তাবাদের লড়াই। তাই আমাদের এতে জড়িত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। এখানেই শেষ নয়। ইসলামাবাদের লাল মসজিদের মৌলানা মসজিদে উপস্থিত শত শত মানুষকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও সরকার কি সমর্থন করবেন তাঁরা? উত্তরে কেউ হাত তোলেনি, এমনকি যুদ্ধে সমর্থনের সম্মতি জানাননি।