আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত। এর মধ্যেই ইরানের শাসক শ্রেণির পক্ষ থেকে বলা ভাল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পরিবারের পক্ষ থেকে শোনা গিয়েছে এক অবাক করা কথা। খামেনির নির্বাসিত ভাইপো মাহমুদ মোরদাখানি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন তিনি যুদ্ধের পক্ষে নন, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনই প্রকৃত শান্তির পথ।
মাহমুদ মোরদাখানি বর্তমানে ফ্রান্সের বাসিন্দা। তিনি বলেছেন, “এই শাসনব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন করতে পারে এমন কিছু করা প্রয়োজন। এখন যেহেতু আমরা এতদূর পৌঁছে গিয়েছি, তাই তা করতেই হবে।” ১৯৮৬ সালে ইরান ছেড়ে চলে আসা মোরদাখানি তাঁর কাকার স্বৈরাচারী শাসনের তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন ইজরায়েলের সঙ্গে সামরিক সঙ্ঘাত দুর্ভাগ্যজনক। তবে যে ব্যবস্থা মাথা নত করে না বা সংস্কার গ্রহণ করে না সেখানে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়।
মোরদাখানি বলেন, “আমি গভীরভাবে দুঃখিত যে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসেছে। কিন্তু খামেনির হত্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কি স্বৈরসাসনের অবসান ঘটবে? যদিও সেটা ভিন্ন প্রশ্ন।“ ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ। তাই মোরদাখানি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তবে তিনি বিশ্বাস করেন বহু ইরানি সেদেশের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে দেখে খুশি।
মাহমুদের মতে, “যত তাড়াতাড়ি যুদ্ধের অবসান হবে ততই ভাল। যুদ্ধের অবসান হতে হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসানের মাধ্যমে। অন্যথায় হবে অর্থহীন পরাজয়। আর আমার বিশ্বাস শাসকগোষ্ঠী তারপর প্রতিশোধ নেবে।” এদিকে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের কাছ থেকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি করার সময় খামেনিকে হত্যার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানেরর প্রাক্তন শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভির পুত্র রেজা পাহলভিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানি স্বৈরশাসন পরিবর্তনের দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন খামেনি ইঁদুরের মতো আত্মগোপন করে রয়েছেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্র তার শেষের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।