নিজস্ব প্রতিনিধি: বিনোদন জগত এক অদ্ভূত মাধ্যম। মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্যে তারকাদের অভিনব প্রয়াস। নিজে দের অভিনয়, সৌন্দর্য, স্টাইল, ব্যক্তিত্ব দিয়ে প্রতিনিয়ত ভক্তদের মন জয় করে নিচ্ছেন তারকারা। বলা চলে, অভিনয় দিয়েই ভক্তদের মণিকোঠায় পৌঁছে গিয়েছেন তারকারা। সেই কারণে প্রিয় নায়ক-নায়িকার জন্যে এক একটা ভক্তদের পাগলামো চোখে পড়ার মতো। চোখের সামনে প্রিয় তারকাকে দেখলে তাঁর সঙ্গে হাত না মিলিয়ে বা তাঁর সঙ্গে ছবি না তুললে ভক্তদের মন ভরে না। কিন্তু মাঝে মধ্যে এর থেকেও অকল্পনীয় কিছু কাণ্ড করে ফেলেন ভক্তরা। যার মধ্যে, একজন ভক্তের প্রিয় নায়িকার জন্যে খোদ মন্দির বানিয়ে তোলা, প্রিয় নায়কের পোস্টার লাগাতে গিয়ে প্রাণও হারিয়েছেন ভক্তরা। প্রিয় নায়কের সঙ্গে দেখা করার জন্যেও অনেক পাগলামো করে থাকে সব বয়সী ভক্তরা।
তেমনি বলিউড সুপারস্টার সলমান খানের বিশ্বজুড়ে বহু ভক্তসংখ্যা। মাঝে মধ্যে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অভিনেতার মুম্বইয়ের বাড়িতেও অনুপ্রবেশ করেন ভক্তরা। তবে এবার যা হল, তা শুনে চোখ কপালে উঠবে আপনারও। সম্প্রতি সলমান খানকে দেখতে দিল্লিতে তাঁদের বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল নায়কের তিন নাবালক ভক্ত। যাদের বয়স যথাক্রমে ৯, ১১ এবং ১৩ বছর। অবশেষে ৪ দিন হন্যে হয়ে খোঁজার পর নাসিক রেলওয়ে স্টেশন থেকে মিলল তাঁদের খোঁজ। যদিও তারা সকলেই নিরাপদ রয়েছেন। আসলে সলমানের সঙ্গে দেখা করার একরাশ স্বপ্ন নিয়ে দিল্লি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল তিন নাবালক। চার দিন ধরে নিখোঁজ ছিল তাঁরা। অবশেষে মহারাষ্ট্রের নাসিকের একটি রেলস্টেশনে তাদের নিরাপদে পাওয়া যায়।
একটি প্রতিবেদন অনুসারে, নাবালকেরা প্রথমে মহারাষ্ট্রের জালনার ওয়াহিদ নামে এক ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যিনি তাদের সলমানের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেইমতো গত ২৫ জুলাই, ওই নাবালকেরা তাঁদের পরিবারকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। যার ফলে তাঁদের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এবং বাধ্য হয়ে তাঁদের বাবা-মা নিখোঁজ ছেলেদের প্রতিবেদন দাখিল করতে বাধ্য হন। তদন্তে নেমে নিখোঁজ এক নাবালকের বাড়িতে একটি হাতে লেখা চিরকুট খুঁজে পায় পুলিশ। যেখানে লেখা ছিল, তাঁরা জালনায় ওয়াহিদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ দিল্লি থেকে মহারাষ্ট্রগামী ট্রেনের রুট ট্র্যাক করতে শুরু করে।
এরপর আজমেরি গেট রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে নিখোঁজ ছেলেদের একটি ট্রেনে উঠতে দেখা যায়। সময় এবং গন্তব্যের ভিত্তিতে, পুলিশের সন্দেহ হয় যে ছেলেরা দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রের মধ্যে চলাচল কারী সচখণ্ড এক্সপ্রেসে ছিল। তবে, ওয়াহিদ যখন জানতে পারেন যে, তাঁদের সঙ্গে পুলিশ যুক্ত, তখন তিনি পিছু হটে যান। এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর ছেলেরা জালনা যাওয়ার পরিকল্পনা ত্যাগ করে এবং নাসিকে নেমে পড়ে।
যদিও ওয়াহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তার সংক্ষিপ্ত ফোন অ্যাক্টিভিটি আরও সূত্র প্রদান করে। দিল্লি পুলিশ, রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী এবং মহারাষ্ট্র পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে, অবশেষে নিখোঁজের চতুর্থ দিনে নাসিকের একটি রেলস্টেশনে খুঁজে পাওয়া যায় নাবালকদের। তবে তাঁরা অক্ষত ছিল এবং শীঘ্রই তাদের পরিবারের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে। তবে এর পেছনে মানব পাচারের কোনও চক্র চলছে কিনা তা পুলিশ তদন্ত করছে ।