নিজস্ব প্রতিনিধি : মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের কাছে সঞ্চয় মানেই স্বল্প সঞ্চয়। এই সঞ্চয়ের ওপরেই ভরসা করেই সাধারণ মানুষ নিজেদের সামান্য পুঁজি জমিয়ে রাখেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হারে কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রায় ১৫ মাস ধরেই একই ছিল এই সুদের হার। এবার আরবিআই-র সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট দেখে শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, স্বল্প সঞ্চয়ের সুদে কী পড়বে কোপ? বিষয়টি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছেই।
আরবিআই-র রিপোর্টে ইঙ্গিত, পিপিএফ, কেভিসি, এমআইএস, রেকারিং ডিপোজিটের মতো স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার বেশ কিছু ‘বেশি’। সুদের হার এমনভাবে চললে ব্যাঙ্কগুলির ডিপোজিটের হার কমতে পারে। যারফলে টান পড়বে ব্যাঙ্কগুলির নগদ জোগানে। আরবিআই-র এই মতামতকে গুরুত্ব দিলে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হারে কোপ পড়তে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
আরবিআই-র রিপোর্টে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে ব্যাঙ্কগুলিতে যে ডিপোজিট জমা পড়েছে, তার বৃদ্ধির হার ১০.৪ শতাংশ। একবছর আগের বৃদ্ধির হারের থেকে এবার তা কমেছে। কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, স্বল্প সঞ্চয়ে বেশি সুদ পাওয়ার জন্য মানুষ ব্যাঙ্কের বদলে সেখানেই ভরসা করছে। আরবিআই সূত্রে খবর, দেশে স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার নির্ভর করে সাধারণত সরকারি বন্ডের সুদের হারের উপর। সেখানেই পরিলক্ষিত হচ্ছে প্রকল্পভেদে সুদের হার ০.১৬ থেকে ০.৬৬ শতাংশ ‘বেশি’।
আরবিআইয়ের দাবি, সম্প্রতি রেপো রেট কমানোর দরুণ ব্যাঙ্কগুলির ডিপোজিটে সুদের হার কমানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু স্বল্প সঞ্চয় স্কিমগুলিতে বেশি সুদ মিললে ব্যাঙ্কগুলির উপর চাপ বাড়বে। মানুষ যেখানে বেশি সুযোগ পাবে সেখানেই বিনিয়োগ বাড়াবে। তিনমাস অন্তর স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হার ঘোষণা করে কেন্দ্র। বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে স্বল্প সঞ্চয়ের প্রকল্পগুলোতে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেই সুদের হার জারি করা রয়েছে। ১ জুলাই থেকে পরবর্তী তিনমাসের সুদের হার ঘোষণা করবে অর্থমন্ত্রক। সেক্ষেত্রে আরবিআইয়ের বক্তব্যটি মাথায় রাখলে সুদের হার কমতে পারে।
বেশ কিছু স্বল্প সঞ্চয়ের পরিষেবা ডাকঘরের পাশাপাশি ব্যাঙ্কেও মিলছে। সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৪ শতাংশ হারে সুদ মিলছে ডাকঘরে। এইগুলো বজায় থাকলে ব্যাঙ্কগুলির নিজস্ব ফিক্সড ডিপোজিট বা সেভিংস অ্যাকাউন্টে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।