Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

কাঁওয়ার যাত্রায় ‘নাম নির্দেশিকায়’ অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

কাঁওয়ার যাত্রার নাম নির্দেশিকা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আগামী ৫ অগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে দিল। ধাক্কা গেরুয়া ব্রিগেডের।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্রাবণ মাস হল ভগবান শিবের মাস। এই মাসে গোটা দেশের শিবভক্ত মানুষেরা গঙ্গা, কাবেরী, গোদাবরী, নর্মদার মতো পবিত্র নদী থেকে জল ভরে কাঁধে বাঁক নিয়ে পায়ে হেঁটে কোনও শৈবতীর্থে গিয়ে শিবলিঙ্গে জল ঢালেন। মধ্যপ্রদেশ(Madhya Pradesh), উত্তরপ্রদেশ(Uttar Pradesh) ও উত্তরাখণ্ডে(Uttarakhand) সেই রীতি পালনকেই কাঁওয়ার যাত্রা(Kanwar Yatra) বলা হয়। কিন্তু এই বছর ওই ৩ রাজ্যের সরকার নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়েছিল, কাঁওয়ার যাত্রার রুটের প্রত্যেক দোকানে উল্লেখ করতে হবে দোকান মালিকের নাম ও দোকানে কর্মচারীদের নাম। সেই নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক দেখা দেওয়ার পাশপাশি তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে(Supreme Court) দায়ের হয়েছিল মামলা। গত সোমবার সেই মামলায় ‘নাম নির্দেশিকা’র ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ(Interim Stay Order) জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হৃষিকেশ রায় ও বিচারপতি এস ভি এন ভাট্টির বেঞ্চ। একই সঙ্গে ৩ রাজ্যের কাছেই চাওয়া হয়েছিল কৈফিয়ত, কেন তাঁরা এই নির্দেশিকা জারি করেছিল। গতকাল উত্তরপ্রদেশ সরকার তাঁদের হলফনামা জমা দিয়ে কারণ ব্যাখ্যা করেছিল। কিন্তু এদিন অর্থাৎ শুক্রবার দেখা গেল, সেই ব্যাখ্যা মেনে নেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। আর তার জেরে আগামী ৫ অগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

কাঁওয়ার যাত্রায় ‘নাম’ নির্দেশিকা জারি করেছিল উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশ সরকার। বলা হয়েছিল যে যে রাস্তা দিয়ে কাঁওয়ার যাত্রা যাবে সেই রাস্তার দুই ধারে থাকা খাবারের দোকানগুলিতে মালিকদের নাম ও সেই দোকানে কাজ করা কর্মীদের নাম ঝুলিয়ে রাখতে হবে যাতে যাত্রীরা তা সহজে দেখতে পান। যদিও সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীদের দাবি, এই ‘নাম নির্দেশিকা’র মূল উদ্দেশ্য, পুণ্যার্থীরা যাতে আলাদাভাবে চিনতে পারেন হিন্দু ও মুসলিম দোকানগুলিকে। এই নির্দেশের মূলে রয়েছে ধর্মীয় বিভাজন আরও স্পষ্ট করে তোলা। দোকান মালিকের ধর্মীয় পরিচয় তীর্থযাত্রীদের কাছে স্পষ্ট করার উদ্দেশে যে নির্দেশিকা জারি হয়েছে, তা নীতিবিরুদ্ধ। এধরনের বিষয় একাধিক মৌলিক অধিকার খর্ব করে। সমাজের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সম্প্রদায়ের ওপর অবিচার। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ‘আমরা মনে করি যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে তার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া উচিত। রাজ্য সরকারগুলি যাত্রা পথের খাদ্য বিক্রেতাদের খাবারের ধরণ প্রদর্শন নিয়ে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দিতে পারে কিন্তু কখনই দোকানের মালিক বা কর্মীদের নাম প্রদর্শন করতে বাধ্য করতে পারে না। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকার জেরে অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। ৩ রাজ্যকে জানাতে হবে তাঁরা এই ধরনের নির্দেশ কেন দিয়েছেন।’

এদিন সেই মামলা আরও একবার ওঠে সুপ্রিম কোর্টে। এদিন শুনানিকালে উত্তরপ্রদেশ সরকারের দেওয়া হলফনামার বিষয়টি ওঠে। যোগী সরকারের তরফে আদালতকে জানানো হয়, কাঁওয়ার যাত্রা যেন শান্তিপূর্ণ থাকে, সেই জন্যই দোকান মালিকদের নাম দোকানের সাইনবোর্ডে লিখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘনের সামিল। ফুড সেফটি আইন ২০০৬ অনুযায়ী, খাদ্য সামগ্রী বিক্রেতার নাম ডিসপ্লে করার নির্দেশ রয়েছে। যে তালিকায় হোটেল, রেস্তরাঁ, ধাবা পড়ে। সেই অনুযায়ী শীর্ষ আদালতের ‘নিষেধাজ্ঞা’ সঠিক নয়। পালটা আদালত প্রশ্ন করে, ‘যদি তাই হয় তবে কেন শুধুমাত্র একটি রাজ্যেই তা লাগু হচ্ছে। প্রমাণ করুন এমন আইন সব রাজ্যে লাগু রয়েছে।’ পাশাপাশি বিরোধী পক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘৬০ বছর ধরে কাঁওয়ার যাত্রা চলছে। এবার এমন নির্দেশ জারি না হলেও কাঁওয়ার যাত্রায় কোনও প্রভাব পড়তো না।’ এরপরেই এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, কাঁওয়ার যাত্রার পথে পড়া খাবারের দোকান, রেস্তরাঁ, ধাবায় মালিকদের নাম লিখতে বাধ্য করা যাবে না। গত সোমবার যে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল তা বহাল থাকবে আগামী ৫ অগস্ট অবধি। সেদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00