নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জিএসটি বা পণ্য পরিষেবা কর বাবদ আদায়কৃত অর্থে উপচে পড়ছে মোদি সরকারের রাজ কোষাগার। কিন্তু ওই করের জ্বালায় আমআদমি কার্যত চোখে সর্ষেফুল দেখছে। ছলছুতোয় জিএসটির নামে পকেট কাটা চলছে। সিনেমা হলে বসে মনের সুখে ছবি দেখতে দেখতে যে ভুট্টা ভাজা (পপকর্ন) খাবে তার যো নেই। কেননা, তাতেও তিন রকমের জিএসটি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। আর নানা ক্ষেত্রে এমন কর চাপানোয় সাধারণ মানুষের চোখে খলনায়িকা হয়ে উঠেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। আর মোদি সরকারের খাজাঞ্চি নির্মলাকে নিয়ে এবার র্যাপ গান বেঁধেছেন সমাজমাধ্যম প্রভাবী খোট্টা সিক্কা। তরুণ সমাজমাধ্যম প্রভাবী পুরো গানেই নির্মলার কর বাজিকে বিঁধেছেন। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে ‘ট্যাক্স ওয়ালি তাই’ নামের র্যাপ গানটি। স্বাধীন ভারতে কোনও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে এর আগে কটাক্ষ করে কেউ গান বেঁধেছেন বলে মনে করতে পারছেন না প্রবীণ রাজনেতারা।
নিজের ইনস্টাগ্রামে নির্মলা ও তাঁর কর বাজিকে বিঁধে তৈরি র্যাপ গান ‘ট্যাক্স ওয়ালি তাই’ পোস্ট করেছেন সমাজপ্রভাবী খোট্টা সিক্কা। গানের প্রতিটি কলিতে কীভাবে বাচ্চাদের স্কুলে পড়তে যাওয়া থেকে নতুন গাড়ি কেনার উপরে করের জুলুম চলছে তা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মিউজিক ভিডিওটিতে কেন্দ্রের মোদি সরকারের গরিবকে ভাতে মারার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি থেকে শুরু করে আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিংহদের মোদি সরকারের রাজরোষে পড়তে হয়েছে, তাও তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে নীরব মোদি-বিজয় মাল্যদের মতো ঠগদের দেশ থেকে নিরাপদে বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার জন্যও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে নির্মলাকে। গানে অবিলম্বে সাধারণ মানুষের মাথার উপর থেকে করের বোঝা কমানোর দাবি জানানোর পাশাপাশি নির্মলার ইস্তফাও চাওয়া হয়েছে।
अंग्रेजों टैक्स सिस्टम के ज़्यदा ख़तरनाक भारत का आज का Taxation है जो आम जानता को चूस कर छोड़ेगा .
इंडिया के टैक्स सिस्टम के ऊपर ये रैप सुनो . #TaxTerrorism #nirmlasitaraman pic.twitter.com/U1WCXkzTW0
— Deepak Kumar (@deepakdialogues) December 30, 2024
সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে ‘ট্যাক্স ওয়ালি তাই।’ নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটা নাগরিকরা। মনোজ যাদব নামে এক নেটসা নাগরিক লিখেছেন, ’৭০-৭৫ বছরে এমন ঘটনা প্রথম বার ঘটল। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে গান তৈরি হল। তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এত রকম কর আদায় করতে পেরে অবশ্যই খুশি হবেন মন্ত্রী মহোদয়া।’ দীপক কুমার নামে আর এক নেটা নাগরিক লিখেছেন, ‘ভারতের কর ব্যবস্থা ব্রিটিশ কর ব্যবস্থার চেয়েও বিপজ্জনক। আম জনতার রক্ত চুষে নিচ্ছে।’ আর এক নেটা নাগরিক লিখেছেন, ‘ভাই খোট্টা সিক্কা, তোমায় কুর্নিশ না জানিয়ে পারছি না। তুমি সত্যিই মহান। কিন্তু তোমার এই নির্মম কষাঘাতে ওদের (নির্মলা সীতারমন) কিছু যায় আসে না। ওরা কর নিয়ে জুলুমবাজি থেকে পিছু হঠবে না। অন্ধভক্তদের পূর্ণ সমর্থন থাকাতেই ওরা মানুষের রক্ত চুষতে পারছে।’